স্ত্রী কুরেশির সঙ্গে থাকতে চান নওমুসলিম আয়ুশ, ব্যক্তিস্বাধীনতা দিতে বলল ভারতের আদালত

স্ত্রী কুরেশির সঙ্গে থাকতে চান নওমুসলিম আয়ুশ, ব্যক্তিস্বাধীনতা দিতে বলল ভারতের আদালত

ভারতের উত্তরপ্রদেশের শামলি পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠার পর ৩১ বছর বয়সী আয়ুশ মালিকের ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালতে আয়ুশ জানান, তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং স্ত্রী চাঁদনি কুরেশির সঙ্গে থাকতে চান।

বিজ্ঞাপন

বুধবার আদালতে আয়ুশকে হাজির করা হয়। ইসলাম গ্রহণ ও এক মুসলিম নারীকে বিয়ের পর তাকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়েছে—এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। শুনানিতে আয়ুশের কথার পর তার ব্যক্তিস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত।

স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণের কথা জানালেন আয়ুশ

শুনানিতে আয়ুশ আদালতকে জানান, কোনো ধরনের জবরদস্তি বা চাপ ছাড়াই নিজের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, স্বেচ্ছায় বিয়ে করা স্ত্রী চাঁদনি কুরেশির সঙ্গে বসবাস করতে চান।

আয়ুশের বন্ধু সুলতান তাকে আদালতে হাজির করার আবেদন জানিয়ে হেবিয়াস করপাস (বন্দি প্রত্যক্ষীকরণ) মামলা করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, রাজ্য কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আয়ুশকে তার বাবা দেবরাজ সিং মালিকের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসলাম গ্রহণ করে চাঁদনিকে বিয়ে করার পরই তাকে আটক করা হয় বলে আবেদনে দাবি করা হয়।

আবেদনকারীদের আরও অভিযোগ, আয়ুশের ব্যক্তিস্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে চাঁদনি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ফৌজদারি মামলাকে তারা ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন।

আয়ুশকে আদালতে হাজিরের নির্দেশ

এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সন্দীপ জৈন উত্তরপ্রদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আয়ুশের বাবাকে ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আগের আদেশে আয়ুশকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা এবং এতে রাজ্য কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার অভিযোগকে ‘গুরুতর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন আদালত।

মামলার আবেদনে বলা হয়, ইসলাম গ্রহণের পর চাঁদনিকে বিয়ে করেন আয়ুশ। পরে তার বাবা ২০২৬ সালের ৬ জুন শামলি থানায় চাঁদনি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করেন।

উত্তরপ্রদেশের ধর্মের বেআইনি ধর্মান্তর নিষেধ আইন, ২০২১ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়।

ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করতে পুলিশের নির্দেশ

আদালতে হাজির হওয়ার পর আয়ুশ আবারও ইসলাম অনুসরণের সিদ্ধান্ত এবং স্ত্রীর সঙ্গে থাকার ইচ্ছার কথা জানান। এরপর পুলিশকে তার ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, প্রাপ্তবয়স্ক দুজনের সম্মতিতে ধর্ম ও জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার অধিকার নিয়েও মামলাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

এর আগে আদালত বলেছিল, উপস্থাপিত নথিপত্র প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত দেয় যে আয়ুশ স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে চাঁদনিকে বিয়ে করেছেন। তবে ওই পর্যায়ে অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি বলেও স্পষ্ট করেছিল আদালত।

মামলাটি এখনও এলাহাবাদ হাইকোর্টে বিচারাধীন। এফআইআর এবং আয়ুশকে আটকে রাখার অভিযোগ ঘিরে আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী শুনানিতে আদালত সিদ্ধান্ত নেবে।

এর আগে গত ৬ জুন আয়ুশ মালিকের বাবা দেবরাজ মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরেুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, কয়েক বছর আগে চাঁদনি কুরেশিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার ছেলেকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করা হয়। এফআইআরে দাবি করা হয়েছে, আয়ুশকে দিল্লিতে নিয়ে গিয়ে জাল নথি ব্যবহার করে নিকাহ পড়ানো হয়েছিল।

এরপর ৭ জুন চাঁদনি কুরেশি ও তার বাবা ইসলাম কুরেশিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তার করা হয় তৌফিককে। তখন পুলিশ জানায়, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বিভিন্ন ধারায় চাঁদাবাজি, প্রতারণা, জালিয়াতি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের ধর্মের বেআইনি ধর্মান্তর নিষেধ আইন-এর ধারায় মামলা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

তবে আয়ুশ মালিক এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ৮ জুন শামলিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, কয়েক বছর আগেই নিজের ইচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং হিন্দুধর্মে ফিরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। তিনি বলেন, বাবা-মায়ের কাছ থেকে আলাদাভাবে বসবাস করছিলেন এবং সামাজিক চাপের মুখে ছিলেন। তার দাবি, বাইরের প্রভাবে তার বাবা মামলা করেছেন এবং ধর্মান্তর কিংবা বিয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের জবরদস্তি ছিল না।

সূত্র: মুসলিম মিরর

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...