ভারত থেকে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসআদ মাদানী। তিনি এ ধরনের সরবরাহকে ‘মানবতা ও ভারতের মূল্যবোধের ওপর কলঙ্ক’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের এক বিবৃতিতে মাওলানা মাদানী বলেন, নির্দোষ বেসামরিক নাগরিক, নারী ও শিশুদের নির্বিচার হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে যেসব অস্ত্র, এটি জানা সত্ত্বেও অস্ত্র সরবরাহ করা একটি অপরাধমূলক কাজ, যা গণহত্যায় সহযোগিতার সমতুল্য।
তিনি আরো বলেন, ‘এটি কেবল আন্তর্জাতিক আইনের নির্লজ্জ লঙ্ঘনই নয়, বরং মানবতা এবং ভারতের মূল মূল্যবোধের সঙ্গে এক গভীর বিশ্বাসঘাতকতা।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এসেছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের সরকারি ও বেসরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ইসরাইলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশ থেকে রপ্তানি করা ডুয়াল-ইউজ (সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য) পণ্যগুলো কঠোর আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, ভারতের সব ধরনের রপ্তানি কার্যক্রম জাতীয় আইন, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পরিচালিত হয়।
মাওলানা মাদানী বলেন, ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার ও ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে। তাই একদিকে নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলা এবং অন্যদিকে ইসরাইলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা ভারতের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতের প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসরাইলে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।
সূত্র: দ্য অবজারভার পোস্ট
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


