সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার চন্দনপুর শাখায় গ্রামীণ ব্যাংকের ১৯৩ গ্রাহকের প্রায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ব্যাংকটির চার সাবেক কর্মকর্তাকে কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তিন কর্মকর্তাকে ৩০ বছর করে এবং অপর একজনকে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা অর্থের সমপরিমাণ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরো দুই বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বুধবার দুপুরে খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক আদীব আলী এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় কোনো আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন গ্রামীণ ব্যাংকের সাতক্ষীরা জেলার চন্দনপুর-কলারোয়া শাখার সাবেক কর্মকর্তা মো. ইনছার আলী, মমতাজ পারভিন, রণেশ বিশ্বাস ও রুনা লায়লা। আদালতের রায়ে তাদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের আমানত আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
দুদকের খুলনা সমন্বিত কার্যালয়ের পাবলিক প্রসিকিউটর মোফাককার হোসেন মনি জানান, গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৪ সালের ৩০ মে দুদক দুটি মামলা করে। এর মধ্যে প্রথম মামলায় ১২৬ জন গ্রাহকের ৫ লাখ ৬১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলায় ইনছার আলী, মমতাজ পারভিন ও রণেশ বিশ্বাসকে দুটি ধারায় ১৫ বছর করে মোট ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্য মামলায় ৬৭ জন গ্রাহকের ৩ লাখ ৫৯ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রণেশ বিশ্বাস, ইনছার আলী ও রুনা লায়লাকে দুটি ধারায় ১৫ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে দুটি মামলায় ইনছার আলী ও রণেশ বিশ্বাসের মোট সাজা দাঁড়িয়েছে ৩০ বছর করে। আর রুনা লায়লাকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। প্রথম মামলায় মমতাজ পারভিনও ৩০ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।
মামলার বাদী ছিলেন দুদকের তৎকালীন উপসহকারী পরিচালক এস এম শামীম ইকবাল। দুদক ও আদালত সূত্র জানায়, গ্রামীণ ব্যাংকের চন্দনপুর-কলারোয়া শাখায় দায়িত্ব পালনকালে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। তদন্ত শেষে দুদক পৃথক দুটি মামলা করে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের এ কারাদণ্ডের রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

