ভারতে ভোটাধিকারের লড়াইয়ে মুর্শিদাবাদের নবাব বংশ

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা

ভারতে ভোটাধিকারের লড়াইয়ে মুর্শিদাবাদের নবাব বংশ
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় মুর্শিদাবাদ জেলায় ব্যাপকসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। প্রায় ২০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগের মধ্যে নবাব বংশের শতাধিক সদস্যের নাম তালিকা থেকে বাদ যাওয়ায় বিষয়টি আরো আলোচনায় এসেছে।

স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ২০ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নবাব পরিবারের সদস্যদেরও নিজেদের নাগরিকত্ব প্রমাণে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে মীর জাফরের প্রায় ৩৪৬ জন বংশধরের নামও।

বিজ্ঞাপন

মুর্শিদাবাদের কিল্লা নিজামত এলাকার বাসিন্দা এবং ‘ছোটে নবাব’ নামে পরিচিত সৈয়দ মুহাম্মদ রেজা আলী মির্জা (৮২) ও তার ছেলে সৈয়দ মুহাম্মদ ফাহিম মির্জার নামও চূড়ান্ত তালিকায় নেই। রেজা আলী মির্জা জানান, তিনি অসুস্থতা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে অংশ নিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেন। প্রাথমিকভাবে আশ্বাস পেলেও শেষ পর্যন্ত সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় তার পুরো পরিবারের নামই উধাও হয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, যাদের পূর্বপুরুষেরা এই অঞ্চল শাসন করেছেন, আজ তাদেরই কেন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে?

এদিকে, গবেষক ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসংগতি, নামের বানান ভিন্নতা বা নথিপত্রের ত্রুটির কারণে অনেক নাম বাদ পড়ছে। কেন্দ্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা নির্বাচন কমিশন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোয়, বিশেষ করে মালদা ও মুর্শিদাবাদে ভোটারদের নাম বাদ দিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

নবাব পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। দেশভাগের সময় নবাব ওয়াসিফ আলী মির্জা পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে ভারতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং মুর্শিদাবাদের ভারতের অন্তর্ভুক্তিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখেন। অথচ আজ তাদেরই দেশপ্রেম ও নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের অনেকেই সময়মতো আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে ভোটাধিকার ফিরে পাবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি উপায়ে নাম পুনঃঅন্তর্ভুক্তির সুযোগ রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যারা এই মাটির সন্তান, তাদের কেন বারবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে? এ ঘটনা প্রমাণ করে, বর্তমানে নির্বাচনি ব্যবস্থাকে হাতিয়ার করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত নাগরিকদেরও অস্তিত্ব সংকটের মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন