ভারতের বিহার রাজ্যের মাইহার জেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় বিদ্যালয়ে আসা, বিদ্যালয়ের ভেতরে মাঠেই মলত্যাগ করে সেই মল শিক্ষার্থীদের দিয়ে পরিষ্কার করানো, পান খেয়ে বিদ্যালয়জুড়ে পিক ফেলা এবং নিয়মিত পাঠদান না করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের পর ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্তের প্রস্তাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা।
অভিযোগ উঠেছে, আমুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কোল নিয়মিত নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না। অনেক দিন তিনি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা। তার অনুপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তদারকিহীন অবস্থায় বিদ্যালয়ে ঘোরাফেরা করে এবং নিয়মিত ক্লাসও হয় না বলে অভিযোগ।
শিক্ষার্থীদের আরো অভিযোগ, ওই শিক্ষক মদ্যপ অবস্থায় বিদ্যালয়ে আসেন এবং কখনো কখনো বিদ্যালয়ের ভেতরেই মলত্যাগ করেন। পরে শিক্ষার্থীদের দিয়ে তা পরিষ্কার করান। তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, তাকে মল পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং এ সময় শিক্ষক তাকে গালিগালাজও করেন।
এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, স্যার মাতাল হয়ে আসেন। স্কুলের ভেতরে মলত্যাগ করেন এবং আমাদের দিয়ে পরিষ্কার করান। তিনি পান খান এবং স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় পিক ফেলেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পানের পিকের দাগ বিদ্যালয়ের দেয়ালসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায়। নিয়মিত পাঠদান না হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের মধ্যাহ্নভোজ কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি করেছেন অভিভাবকেরা।

এক শিক্ষার্থীর মা রাধা দ্বিবেদী অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক শিশুদের দিয়ে শুধু মেঝে পরিষ্কারই করান না, তাদের পানি আনতেও বাধ্য করেন। তার দাবি, শিক্ষকের বিদ্যালয়ে আসার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। মদ্যপ অবস্থায় এসে তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতেও পারেন না।
আরেক অভিভাবক ক্রান্তি যাদবের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক সাধারণত বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন। তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি নেই। ফলে শিক্ষক মদ্যপ অবস্থায় থাকলে শিক্ষার্থীরা কার্যত তদারকিহীন হয়ে পড়ে। মধ্যাহ্নভোজও নিয়মিত দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিভাবক রুক্মিণী বুনকারও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার দাবি, শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খাবার বা পানি পাচ্ছে না এবং তাদের নিয়মিত পড়াশোনাও হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে কার্যকর তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে ওই প্রধান শিক্ষককে ট্যাবলেটে ইউটিউব ভিডিও দেখতে দেখা যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে বিদ্যালয়ের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা গুটখার পিকের দাগ সম্পর্কে জানতে চাইলে দৃশ্যত মদ্যপ অবস্থায় থাকা ওই শিক্ষক বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে দেব।’
বিষয়টি ইতোমধ্যে শিক্ষা বিভাগের নজরে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্লক শিক্ষা কর্মকর্তা (বিইও) রাজেশ দ্বিবেদী। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টার প্রধানের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্তের প্রস্তাব জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও)-এর দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দিয়ে মল পরিষ্কার করানোর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শিশুদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। এখন প্রশাসনিক তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয়, সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: এনডিটিভি
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


