পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যক্রমে থাকছে না পানি-আম্মা-আব্বা

পশ্চিমবঙ্গের পাঠ্যক্রমে থাকছে না পানি-আম্মা-আব্বা
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। বাংলা ভাষার পাঠ্যবইয়ে কিছু শব্দ পরিবর্তন করে নতুন শব্দ যোগ করা হচ্ছে। পরিবর্তন হবে ইতিহাস ও সাহিত্যের অংশেও ।

পাঠ্যবইয়ে ‘পানি’ শব্দের জায়গায় ‘জল’ ব্যবহার করা হবে। ‘আব্বা’ শব্দের বদলে ‘বাবা’ এবং ‘আম্মি’ বা ‘আম্মা’র জায়গায় ‘মা’ লেখা হবে।

বিজ্ঞাপন

২০২৭ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন পাঠ্যক্রমে এ ধরনের পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে রাজ্য সরকারের গঠিত একটি কমিটি।

সুবেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার গত জুলাইয়ে পাঠ্যক্রম পুনর্বিন্যাসের জন্য এই কমিটি গঠন করে। কমিটির সুপারিশে হিন্দুত্ববাদী নেতা ও জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্ম অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি মুঘল শাসন এবং মার্কসবাদী দর্শনের কিছু অংশ বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা কমিটির প্রধান এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাংলা ভাষার পাঠ্যবই থেকে ‘পানি’, ‘আব্বা’ ও ‘আম্মি’র মতো শব্দ বাদ দেওয়া হবে। হিন্দুস্তান টাইমসকে তিনি বলেন, ‘বাংলায় কথা বলার সময় সাধারণত আমরা এসব শব্দ ব্যবহার করি না। এর পরিবর্তে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত ‘জল’, ‘বাবা’ ও ‘মা’র মতো শব্দ রাখা হবে।’

কমিটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে মুঘল ইতিহাসের কিছু অংশ, ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনসংক্রান্ত কয়েকটি অধ্যায় এবং মার্কসবাদবিষয়ক কিছু বিষয় সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শিবাজী উৎসব’ এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘মেবার পতন’-এর মতো কবিতা ও নাটক পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে সিরাজউদ্দৌলাকে নিয়ে লেখা নাটকটি বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ‘আফ্রিকা’ কবিতাটিও পাঠ্যবই থেকে বাদ পড়ছে।

২০২৭ সালের জানুয়ারিতে নতুন পাঠ্যবইয়ের প্রথম সংস্করণ প্রকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন