জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে সচেতন ও সক্রিয় করে তুলতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রথম বাংলাদেশ জাতীয় জলবায়ু অলিম্পিয়াড’। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে দিনব্যাপী এ অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হয়।
জিরো কম্পিটিশন্স এবং সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস নেটওয়ার্কের (এসএলএসএন) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় জলবায়ু অলিম্পিয়াড আয়োজক কমিটির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর, ভূতত্ত্ব বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. বদরুদ্দোজা মিয়া, ডিজাস্টার সায়েন্স অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান বি এম রাব্বী হোসেন, ঢাকাস্থ রাশিয়ান হাউসের পরিচালক আলেকজান্দ্রা এ. খেলভনয় এবং প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র সমন্বয়কারী দেলোয়ার হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অলিম্পিয়াডে অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে, যার কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান তুলনামূলকভাবে খুবই কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের অন্যতম শিকার বাংলাদেশ। বন্যা, খরা, অতিবৃষ্টি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো মারাত্মক পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে দেশকে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ভবিষ্যতের এই সংকট মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। এ জন্য তাদের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ, প্রভাব ও করণীয় সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে এগিয়ে আসতে হবে।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ, টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলার বিষয়ে জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে এ জলবায়ু অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে।
অলিম্পিয়াডে দেশের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা তিনটি ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়। ক্যাটাগরিগুলো হলো- জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি।
প্রতিযোগিতা শেষে তিন ক্যাটাগরির মোট ৩৯ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা হয়। এর মধ্যে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে ১০ জন, সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে ১৫ জন এবং হায়ার সেকেন্ডারি ক্যাটাগরিতে ১৪ জন শিক্ষার্থী পুরস্কার লাভ করে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

