ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাঈদ আল নোমানের সাক্ষাৎ

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাঈদ আল নোমানের সাক্ষাৎ

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রাম-১০ (পাঁচলাইশ, ডবলমুরিং, পাহাড়তলী) আসনের এমপি সাঈদ আল নোমান। তিনি গতকাল থিম্পুতে ‘সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারি ডায়ালগ অন এনভায়রনমেন্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট’ সম্মেলনের ফাঁকে তোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

বিজ্ঞাপন

উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ বৈঠকে ভুটানের জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পিকার সাংয়ে খান্ডু উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট মোকাবিলা, টেকসই জ্বালানি এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সম্মেলনে নিজের বক্তব্যে আঞ্চলিক সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, শুধু পৃথক পৃথক দেশের উদ্যোগ নয়, প্রয়োজন বৈশ্বিক সহমর্মিতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ। জলবায়ু সংকট কোনো সীমান্ত মানে না; তাই আমাদের সমাধানও সীমান্তে আটকে থাকা উচিত নয়।

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়া আজ অভিন্ন জলবায়ু ঝুঁকির মুখোমুখি। ভয়াবহ বন্যা, ভূমিধস, খরা ও খাদ্য-জ্বালানি নিরাপত্তার চাপ পুরো অঞ্চলকে বিপর্যস্ত করছে। এসব সংকট মোকাবিলায় বিচ্ছিন্ন কৌশলের পরিবর্তে সমন্বিত জলবায়ু শাসনব্যবস্থা ও আগাম দুর্যোগ প্রস্তুতির আহ্বান জানান তিনি।

দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সংলাপে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে সংঘটিত সাম্প্রতিক দুর্যোগ ও মানবিক বিপর্যয়, বিশেষ করে নেপালের সাম্প্রতিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। উপস্থিত বক্তারা সতর্ক করে বলেন, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামীতে কোটি কোটি মানুষ নতুন করে ঝুঁকিতে পড়বেন।

সাউথ এশিয়ান পার্লামেন্টারিয়ানস ফোরামের (এসএআরপিএফ) চেয়ারম্যান ড. সঞ্জয় জয়সওয়ালের সভাপতিত্বে এই সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেন।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারপারসন জাহারাত আদিব চৌধুরী, ভুটানের পরিবেশমন্ত্রী লিয়নপো ইয়ুনতেন ফুনশো, ইউএনওপিএস-এর ড. সামান্থা স্ট্র্যাটন-শর্ট, এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর সোনোমি তানাকা এবং ইন্টারন্যাশনাল সোলার অ্যালায়েন্সের নার বাহাদুর।

সংলাপের সমাপনীতে প্রতিনিধিরা একমত হন যে, কেবল দুর্যোগ-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়া নয়, বরং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও সহনশীলতায় যৌথ বিনিয়োগই এখন সময়ের দাবি।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন