ইসরাইলের অধীন নাগেভ অঞ্চলের বাসিন্দা উম্মে খালিদ ফাততুন। গত বছর যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যের জন্য পরিচালিত একটি ইহুদি-আরব সহায়তা কেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবামূলক দায়িত্ব পালন করে বাড়ি ফিরে দেখেন বেদুইন গ্রাম আজ-জারনাগে তার ছেলের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ পাহারা নিয়ে আসা উচ্ছেদকর্মীরা বাড়ি থেকে আসবাবপত্র বা সোলার প্যানেল সরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ দেয়নি। ধ্বংসস্তূপের সঙ্গেই মূল্যবান সামগ্রী চাপা পড়ে যায়।
ওই ঘটনার বদলা নিতে এক বছর অপেক্ষা করেছেন উম্মে খালিদ। মঙ্গলবার ব্যালটের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত বদলা নিয়েছেন তিনি। তার লক্ষ্য ছিল একটিই, ফিলিস্তিনি-আরব বাসিন্দাদের উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে আসা উগ্রবাদী ইতামার বেন-গভিরকে চরম জবাব দেওয়া।
তিনি বলেন, ‘আমার লক্ষ্য ছিল একটিই, বেন-গভিরকে বিদায় দেওয়া। বেদুইনদের মধ্যে এমন কোনো পরিবার নেই যে, তার প্রচারণা থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে অন্য বেদুইন নারীদের অধিকার ও ক্ষমতার বিষয়ে সচেতন করার তৃণমূল পর্যায়ে প্রচারে যোগ দেন তিনি। এর ফলাফল হয় বিশাল। দক্ষিণ নাগেভের বেদুইন গ্রামগুলো থেকে আগের চেয়ে তিনগুণ ভোট পড়ে ইসরাইলের নির্বাচনে।
তৃণমূল পর্যায়ে এ প্রচারে নেতৃত্ব দেওয়া আলনাশমিয়াত নেটওয়ার্কের প্রধান হানান আসসানাহ বলেন, বছরের পর বছর সহিংসতার পর ইসরাইলি বর্ণবাদী সরকার ভোট দিতে অনিচ্ছুক বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য পরিবর্তনের আকাঙক্ষা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম যদি সব পুরুষ ভোট দিতে যান, তাতে শুধু সম্প্রদায়ের অর্ধেক মানুষের শক্তি জমা হবে। আমাদের উচিত সবার ভোটের শক্তি জড়ো করা। কেননা, বেন-গভিরের শক্তি অনেক।’
মঙ্গলবারের নির্বাচনে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলি নাগরিকদের বিপুল ভোট পড়েছে। এই ভোটের জেরে ইসরাইলের আইনসভা কেনেসেটে ১৯ আসন অর্জন করে আরব দলগুলো। ইসরাইলে সরকার গঠন করতে বর্তমানে এই দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে।
তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অভিযোগ করছেন, ফিলিস্তিনি এলাকাগুলোয় ভোট কারচুপি হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিরোধী রাজনৈতিক জোটের নেতা, নির্বাচনের আয়োজক ও নাগেভের অধিকারকর্মীরা।
আবু তালুল গ্রামের অধিকারকর্মী আমিরা হাবদুবি বলেন, ‘আমাদের ভোট দেওয়ার হারে আমি গর্বিত। তারা দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করছে। তবে এর জন্য সঠিক শব্দ হচ্ছেÑসচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে।’ আরেক অধিকারকর্মী মায়েদা আবু খাওয়েদা জানান, তারা বেদুইন নারীদের তাদের অধিকারের বিষয়ে সচেতন করেছেন। এছাড়া ব্যবস্থাপনা ও প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন বাধা অতিক্রমে সহায়তা করেছেন।
তিনি বলেন, ‘অনেক নারীই জানতেন না তারা ভোট দিতে পারবেন। আমরা তাদের বললাম, আপনাদের ক্রোধ প্রকাশ ও মতামত জানানোর আইনি উপায় রয়েছে।’
তৃণমূল পর্যায়ের এ ধরনের প্রচারের জেরে বেদুইন সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক নারী ভোট দিতে আসেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

