হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়েছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতারের মাধ্যমে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিটিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
প্রস্তাবটিতে আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড়, তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয় রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবটির মূল বিষয়গুলো হলো—
১. সাত দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ: গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রস্তাবে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সাত দিনের জন্য সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।
২. জব্দ করা সম্পদ ছাড়: ইরানের অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের জব্দ করা সম্পদ ছাড় করার দাবি জানানো হয়েছে।
৩. তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
৪. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার: ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বন্ধ করার কথাও বলা হয়েছে।
ষষ্ঠ দিনে খুলবে হরমুজ, সপ্তম দিনে চূড়ান্ত আলোচনা
জাতিসংঘে শুক্রবার সাংবাদিকদের আরাগচি বলেন, পরিকল্পনার প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নে চার থেকে পাঁচ দিন লাগবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘সপ্তম দিনে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।’ এ ক্ষেত্রে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিও আলোচনায় আসবে।
আরাগচি বলেন, ‘এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। ইরান কোনো ধরনের জবরদস্তি, হুমকি বা ভয়ভীতি মেনে নেয় না। চাপের মুখে ইরান তার সার্বভৌম অধিকার ছাড়বে না।’
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ট্রাম্প
তবে ইরানের এই প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এদিকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে প্রণালিটি বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ লেখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্মতির ওপর।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

