পূর্ব ভূমধ্যসাগরে তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সামুদ্রিক সীমা নির্ধারণী সমঝোতা স্মারক অনুমোদনের নিন্দা জানিয়েছে ইসরাইল।
সম্প্রতি লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলভিত্তিক প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) আঙ্কারার সঙ্গে চুক্তির প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। বুধবার ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে তাদের এ অবস্থান স্পষ্ট করে।
পূর্ব লিবিয়া শাসন করছেন সামরিক নেতা খালিফা হাফতার। বিগত বছরগুলোতে ত্রিপোলিভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও সাম্প্রতিক সময়ে হাফতার প্রশাসন আঙ্কারার কাছাকাছি এসেছে।
এই চুক্তির মাধ্যমে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের সম্ভাব্য গ্যাসসমৃদ্ধ একটি অঞ্চলের সামুদ্রিক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গ্রিস ও সাইপ্রাসের দাবি, এই চুক্তির ফলে তাদের নিজস্ব সামুদ্রিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। গ্রিস, মিসর ও সাইপ্রাস দীর্ঘদিন ধরে এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে। গ্রিক কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত গ্রিসের রাষ্ট্রদূত অ্যাগলাইয়া বাল্টা বুধবার বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে অবহিত করেছেন এবং এতে পূর্ব ভূমধ্যসাগরের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও (ইইউ) তাদের সদস্য রাষ্ট্র গ্রিস ও সাইপ্রাসের সমর্থনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে চুক্তিটিকে ‘অকার্যকর ও বাতিলাযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস এক বিবৃতিতে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সমুদ্র আইন কনভেনশন অনুযায়ী সকল সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌম অধিকার রক্ষা করা জরুরি।
এদিকে অঞ্চলটিতে গ্রিস ও সাইপ্রাসের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইল তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘তুরস্ক ও লিবিয়ার মধ্যে সামুদ্রিক এখতিয়ারসংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক অনুমোদনে লিবিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের সিদ্ধান্তকে আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। এই চুক্তিটি এ অঞ্চলে আমাদের নিকটতম মিত্রদের সার্বভৌম অধিকারকে ক্ষুণ্ন করে। অত্যন্ত আফসোসের বিষয়, আমরা আবারও দেখছি তুরস্ক পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরিতে লিপ্ত রয়েছে।’
অন্যদিকে, আঙ্কারা এই পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার একে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়সংগত নীতির ভিত্তিতে পারস্পরিক অধিকার সুরক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ব্রাসেলসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা এর বিরোধিতা করছেন, তাদের স্ট্র্যাটেজিক বা রাজনৈতিক কারণ আমরা জানি। তবে আইনি ও সংবিধিবদ্ধ উভয় দিক থেকেই এটি সম্পূর্ণ বৈধ একটি চুক্তি এবং এটি নিয়ে তর্ক করার কোনো অবকাশ নেই।’
পক্ষান্তরে মিসর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই চুক্তির কোনো আইনি ভিত্তি ও কার্যকারিতা নেই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


