দখলদার ইসরাইলি কারাগারে বন্দি হওয়া ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট নেসেটে বিল পাস করা হয়েছে। নতুন বিলটি কার্যকর হলে ছয় দশকের বেশি সময় পর দেশটিতে আবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর শুরু হতে পারে। স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যায় অধিবেশনে ভোটের মাধ্যমে বিতর্কিত এ বিলটি পাস করা হয়।
মানবাধিকার সংগঠন ও ফিলিস্তিনি নেতারা ইসরাইলের নতুন একটি আইন পাসের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এ আইনে প্রাণঘাতী হামলায় দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তারা একে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং স্বভাবগতভাবে বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। খবর আল জাজিরা।
ইউএন হিউম্যান রাইটস অফিস আইনটি ‘অবিলম্বে বাতিল’ করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, জাতিসংঘ সব পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে। এ আইন বাস্তবায়ন করলে তা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অপমানজনক শাস্তির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে।
এছাড়া তারা বলেছে, আইনটি বর্ণভিত্তিক বৈষম্য ও রাষ্ট্রীয় আইনের মাধ্যমে বৈষম্য সৃষ্টিকে নিষিদ্ধ করার আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনকে আরো গভীর করবে।
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ আইনকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অধিকৃত এলাকায় ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই উল্লেখ করে বলছে, আইনটি আবারো দেখিয়ে দিল ইসরাইলের উপনিবেশিক ব্যবস্থার ধরন, যা আইনগত পদক্ষেপের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করছে।
হামাস এ আইনকে ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে উল্লেখ করেছে, যা ইসরাইলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনিদের জীবনের জন্য হুমকি তৈরি করবে। তারা বলেছে, এ সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে দখলদার ইসরাইল ও তার নেতারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করছে।
এছাড়া প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে প্যালেস্টাইন সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস, অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, কাউন্সিল অব ইউরোপ, আয়ারল্যান্ড ও ইতালি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

