যুক্তরাজ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ের জিসিএসই পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিতে পাস করতে না পারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। তবে এই পরিকল্পনাকে ‘হতাশাজনক’ ও অকার্যকর বলে সমালোচনা করেছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও স্কুল নেতারা।
ইংল্যান্ডে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা জিসিএসই পরীক্ষায় ইংরেজি বা গণিতে প্রয়োজনীয় গ্রেড ৪ অর্জন করতে পারেনি, তাদের পরবর্তী শিক্ষাজীবনে আবারও এসব বিষয়ে পড়াশোনা ও পরীক্ষা দিতে হয়। চলতি বছর পুনরায় গণিত পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র প্রতি সাতজনে একজন গ্রেড ৪ বা তার বেশি পেয়েছে। অন্যদিকে, ইংরেজিতে প্রতি ছয়জনে একজন পাস করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকেই আবারও পরীক্ষা দিতে হবে। এবার প্রায় ৭০ শতাংশ ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী গণিত ও ইংরেজিতে পাস করলেও প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার শিক্ষার্থী অন্তত একটি বিষয়ে গ্রেড ৪ অর্জন করতে পারেনি।
এ অবস্থায় ইংল্যান্ডের শিক্ষা বিভাগ ‘স্টেপিং স্টোন’ নামে নতুন একটি লেভেল-১ যোগ্যতা চালুর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে যারা প্রথমবার জিসিএসই পরীক্ষায় গ্রেড ২ বা তার কম পেয়েছে, তাদের জন্য এই ব্যবস্থা করা হবে।
শিক্ষামন্ত্রী লুসি পাওয়েল বলেন, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক শিক্ষার্থী একই পরীক্ষার চক্রে বারবার আটকে যাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের ইংরেজি ও গণিতে প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরি করে উচ্চশিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ বা শিক্ষানবিশ কর্মসূচিতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
তবে স্কুল ও কলেজ নেতাদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, বারবার একই পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও আত্মবিশ্বাস নষ্ট করছে। তাদের মতে, শুধু নতুন একটি যোগ্যতা যোগ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; ইংরেজি ও গণিতের মূল্যায়ন পদ্ধতিতেই পরিবর্তন প্রয়োজন।
একজন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেন, নতুন ব্যবস্থা এমন হওয়া উচিত যাতে দরিদ্র বা সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের শিক্ষার্থীরা নিম্নমানের শিক্ষার পথে ঠেলে না পড়ে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পথ থাকতে পারে, কিন্তু সবার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার সীমা একভাবে নির্ধারণ করা উচিত নয়।
পরীক্ষায় ব্যর্থতার হার বেশি থাকলে শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা তরুণের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

