আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাচিপ নেতা

রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমওর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

রাউজান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমওর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
ছবি: আমার দেশ

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. টিবলু কান্তি দের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে টেকনেশিয়ান এনে রোগীদের অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে বাধ্য করা, হাসপাতালে ডিউটির সময়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বার করার মতো অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে সপ্তাহে ছয় দিন দায়িত্ব পালনের কথা তার। কিন্তু তিনি নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না। সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন আসেন। বাকি সময়গুলোতে অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে হাসপাতালে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলেও মাসিক হাজিরায় তার শতভাগ উপস্থিতি দেখানো হয়। 

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের অনেক চিকিৎসক বলেন, ‘তিনি হাসপাতালে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। কাউকে তোয়াক্কা করেন না। তার ভয়ে সবাই চুপ করে থাকে। তাই আমরা কাউকে কিছু বলতে পারি না।’

ওই চিকিৎসকেরা আরও বলেন, তিনি ইচ্ছেমতো রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা দিচ্ছেন। রাউজানের নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক থেকে ল্যাব টেকনিশিয়ান হাসপাতালে এসে পরীক্ষাগুলো করে থাকেন। অথচ হাসপাতালের বাহিরের টেকনিশিয়ান আসার কোনো নিয়ম নেই। এতে করে তিনি কমিশন পান।

অনেক রোগী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতাল এসে তারা প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছেন না। প্যারাসিট্যামল আর স্যালাইন ছাড়া তেমন কিছু নেই। তিনি (আরএমও) বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করেছেন।

রাউজানের জলিলনগর এলাকার নিউ স্টার ল্যাব নামের একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের ‘ডি-ডাইমার’ পরীক্ষা করানোর প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। রোগীদের অভিযোগ, সরকারি ব্যবস্থাপত্রে পরীক্ষাটির নাম উল্লেখ না করে সাদা কাগজে লিখে দিয়ে নিউ স্টার ল্যাবে পরীক্ষা করাতে বলা হয়। 

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, 'নিউ স্টার ল্যাবে ডি-ডাইমার পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় বি-ক্যাটাগরির লাইসেন্স নেই।

২০২৩ সালের পর প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। তবে নিউ স্টার ল্যাবের ম্যানেজার পরিচয়দানকারী জনি বলেন, 'আমাদের সব ধরনের কাগজপত্র রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন প্রক্রিয়াধীন।'

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. টিবলু কান্তি দে। তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যে ব্যক্তিগত কাজ বা মিটিং থাকলে বাইরে থাকি। এছাড়া নিয়মিত হাসপাতালে রোগী দেখি। আপনারা হাজিরা চেক করলে বুঝতে পারবেন। হাসপাতালে না এসে কথা বললে তো বুঝা যাবে না। আমার ওপর অনেক দায়িত্ব। আমি না থাকলে তো কিছুই হবে না।’

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহজাহান বলেন, ‘হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি এমন করেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন