আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকানরা ঘুম থেকে উঠে দেখবে যে তাদের দেশের বিশ্বব্যাপী আধিপত্য পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ লিম টিয়ানের একটি সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে এমন মন্তব্য করেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন, কোনো অতিরঞ্জন করছি না যখন বলছি যে এর অবসান ঘটেছে মাত্র এক দিনে, যখন ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানান যে তিনি হরমুজ প্রণালী পুনরায় না খুলেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত। এই খবরটি প্রথম প্রকাশ করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এবং পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তা নিশ্চিত করেন। আমরা যা প্রত্যক্ষ করছি তা সত্যিই ঐতিহাসিক, বার্লিন প্রাচীরের পতনের মতোই তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি আরো বলেন, ইতিহাসে এমন আর কোনো অধ্যায়ের কথা আমার মনে পড়ে না, যেখানে একটি দেশের প্রভাবশালী অবস্থান রাতারাতি এত নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে।
কিন্তু কোনো শব্দই এই ঘটনার বিশালতাকে আড়াল করতে পারবে না। যখন আপনি একটি দেশ ও তার সরকারকে ধ্বংস করার জন্য যুদ্ধে যান, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনার শত্রুকে বিশ্বের তেল ও জ্বালানি সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণে রেখে আসেন, তখন আপনার মর্যাদা সত্যিই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়! আর যখন আপনাকে বিশ্বের এমন একটি অঞ্চল ছেড়ে যেতে হয় যেখানে আপনি একসময় প্রভাবশালী ছিলেন, কিন্তু এখন আপনার আর কোনো সামরিক ঘাঁটি নেই কারণ আপনার শত্রু সেগুলোর সবগুলোকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে, তখন এটি আরও একটি অকাট্য ইঙ্গিত যে আপনি আর বিশ্বের পরাশক্তি নন।
লিম টিয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি পরাশক্তি কোনো কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ কোনো শত্রু আঞ্চলিক শক্তির হাতে তুলে দেয় না। বিশ্বের কোনো অঞ্চলে তার নিজের আবাস থেকে তাকে তাড়িয়ে দেওয়াও যায় না। কিন্তু ইরান যুদ্ধে ঠিক এটাই ঘটেছে।
পোস্টে লিম টিয়ান উল্লেখ করে বলেন, সাম্রাজ্যগুলো তাদের চূড়ান্ত পতনের আগে প্রায় সবসময়ই বহু বছর ধরে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। কিন্তু প্যাক্স আমেরিকানা তেমন ছিল না, যার অবসান ঘটেছিল মাত্র একদিনে!
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

