ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৪৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। শনিবার ভোরে আঘাত হানা ভূমিকম্পে শত শত বাড়িঘর ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর আনাদোলুর।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনতারার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৪ জন মাংগারাই রিজেন্সিতে, ১৭ জন ইস্ট মাংগারাইয়ে, তিনজন সিক্কায়, একজন নাগাদায় এবং একজন এনদেতে মারা গেছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১৫৭টি বাড়ি মারাত্মকভাবে, ৪১টি মাঝারিভাবে এবং ১৪৮টি বাড়ি সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ৮৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ১৮টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, পাঁচটি উপাসনালয় ও ছয়টি সরকারি কার্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিদ্যা সংস্থা (বিএমকেজি) কয়েকটি এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়।
উদ্ধারকারী দলগুলো আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে বিএনপিবি। ভূমিকম্পের পর নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ২ হাজার মানুষকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
মূল ভূমিকম্পের পর ১১১টি আফটার শক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে একটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ১। শক্তিশালী কম্পনে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় আশ্রয় নেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
এদিকে শনিবার উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের পেমাতাংসিয়ান্তারের কাছে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া শনিবার সুলাওয়েসিতে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। জার্মানির জিএফজেড হেলমহোলৎস সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ৭২ কিলোমিটার। তবে ইন্দোনেশিয়ার বিএমকেজি এর মাত্রা ৬ দশমিক ২ এবং গভীরতা ৪৪ কিলোমিটার বলে জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। ভূমিকম্পপ্রবণ এই অঞ্চলে সক্রিয় ভূ-চ্যুতি ও অসংখ্য আগ্নেয়গিরি থাকায় দেশটিতে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়ে থাকে।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


