ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তির দুর্বলতা স্পষ্ট: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক শক্তির দুর্বলতা স্পষ্ট: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা ও নানা ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ দিক প্রকাশ পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি তুলে ধরেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। ইরানের হামলা সম্পর্কে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলা সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডানে চালানো হামলাসহ শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ক্রমবর্ধমান হুমকির বিষয়টি স্পষ্ট করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল আরও জানিয়েছে, এসব হামলা প্রমাণ করেছে যে বিদেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মীদের যথাযথভাবে রক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেই।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ২ হাজারেরও বেশি বিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং আটটি দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহৃত অন্তত ২০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

মার্কিন এই সংবাদপত্রের আরও দাবি, এখন পর্যন্ত শুধু সামরিক সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির হিসাবেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি করেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে ইরান ৪২টিরও বেশি মার্কিন সামরিক বিমান ধ্বংস করেছে অথবা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এদিকে মার্কিন সংবাদপত্র নিউ ইয়র্ক টাইমসও আবার যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে। পত্রিকাটি লিখেছে, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এই সংঘাতে দেড় হাজারেরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং হাজার হাজার ক্রুজ ও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র পুনরায় মজুত করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।

এই ঘাটতি যুদ্ধের আগেই ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কারণে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এখন তা পূর্ণাঙ্গ সংকটে পরিণত হয়েছে। এর ফলে ইউরোপ ও এশিয়ায় সম্ভাব্য হুমকির জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

রাশিয়া ও চীন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারের এই হ্রাস পর্যবেক্ষণ করছে। তারা তাইওয়ান কিংবা পূর্ব ইউরোপের মতো বিরোধপূর্ণ অঞ্চলে কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।

এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আগামী কয়েক দশকের জন্য বিশ্বের নিরাপত্তাব্যবস্থার বর্তমান কাঠামোকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন