গোপন স্বামীকে হত্যা করল প্রথম স্বামী

শ্রীনগরে ভাই সাজিয়ে রেখে পরকীয়া প্রেমিককে গোপনে বিয়ে

শ্রীনগরে ভাই সাজিয়ে রেখে পরকীয়া প্রেমিককে গোপনে বিয়ে
আটক মো. মন্টু। ছবি: আমার দেশ

শ্রীনগরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে তাকে গাজীপুরের শ্রীপুর থানার ট্যাংরা বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে শ্রীনগর থানার পুলিশ।

জানা গেছে, ঢাকার লালবাগের কাশ্মীরিটোলা লেনের বাসিন্দা মো. মন্টুর স্ত্রীর সঙ্গে একই এলাকার আ. জব্বারের (৫০) পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

প্রায় দুই বছর আগে মন্টু-রুবিনা দম্পতি শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম খৈয়াগাঁও গ্রামের কাজী সাইফুজ্জামানের বাড়ির কেয়ারটেকার হিসেবে কাজে যোগ দেন। আ. জব্বার মাঝেমধ্যে রুবিনার সঙ্গে এখানে দেখা করতে আসতেন, কিন্তু এতে রুবিনার মন ভরছিল না।

ছয় মাসে আগে রুবিনা গোপনে আ. জব্বারকে বিয়ে করেন এবং ধর্মের ভাই পরিচয়ে তাকে নিজেদের সংসারে নিয়ে আসেন। একসঙ্গে বসবাস করাকালে জব্বারের সঙ্গে রুবিনার অবাধ মেলামেশার বিষয়টি মন্টু টের পেয়ে যান। মন্টুর চাপাচাপির কারণে রুবিনা-জব্বারের গোপন বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ নিয়ে জব্বারের সঙ্গে মন্টুর বিরোধ তৈরি হয়।

এ সময় একই সঙ্গে দুই স্বামীর সঙ্গে রুবিনার সংসার করার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়।

একপর্যায়ে রুবিনা-জব্বার মিলে মন্টুকে বাসা থেকে বের করে দেন। মন্টুকে আইনগতভাবে রুবিনা তালাকও দেন। এতে মন্টু ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন।

গত ১৬ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে মন্টু ওই বাড়িতে গিয়ে জব্বারের সঙ্গে তর্ক শুরু করেন। তর্কবিতর্কের একপর্যায়ে মন্টু ধারালো অস্ত্র দিয়ে জব্বারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। ওই দিনই চিকিৎসাধীন অবস্থায় জব্বারের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় গত ৩১ আগস্ট আ. জব্বারের আগের স্ত্রী মিনারা বেগম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় হত্যা মামলা করেন। তিনি জানান, আ. জব্বার বাংলাদেশ সচিবালয়ের আউট সোর্সিং ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করতেন।

শ্রীনগর থানার (ওসি) তদন্ত মিল্টন দত্ত জানান, মামলা হলেও মন্টু ভাসমান হিসেবে বসবাস করায় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত শনিবার বিকেলে তাকে গাজীপুরের শ্রীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন