‘পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর এত হত্যা হয়নি’: ইসরাইলি শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

‘পশ্চিম তীরে ১৯৬৭ সালের পর এত হত্যা হয়নি’: ইসরাইলি শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, তার বাহিনী “১৯৬৭ সালের পর এত হত্যা করেনি”। এমন বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজে প্রকাশিত হওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীরে সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ একটি বন্ধ বৈঠকে এ মন্তব্য করেন। তিনি এখনো এ বক্তব্য অস্বীকার করেননি, যদিও ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্লুথ জানান যে গত বছর পশ্চিম তীরে সড়কে পাথর নিক্ষেপকারী ৪২ জন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এসব কর্মকাণ্ডকে “সন্ত্রাসবাদ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে একই ধরনের কাজ করা ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে এরকম ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয় না বলেও তিনি স্বীকার করেন।

ব্লুথের ভাষায়, “হ্যাঁ, এতে বৈষম্য রয়েছে।” পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিরা সামরিক আইনের আওতায় বিচারাধীন, যেখানে ইসরাইলি নাগরিকরা বেসামরিক আদালতে বিচার পায়—এই বৈষম্যের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এছাড়া, ইসরাইলে কাজের উদ্দেশ্যে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের কথাও বলেন তিনি। তার মতে, সন্দেহভাজনদের হাঁটুর নিচে গুলি করে আহত করা এখন অনুমোদিত, যা “প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা” হিসেবে কাজ করে।

তার এই বক্তব্যকে সমালোচনা করে হারেৎজের এক সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ফিলিস্তিনিদের ওপর এ ধরনের নীতির সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে কি না।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় যুদ্ধ শুরু হলে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বেড়ে যায়। জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বাহিনী ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ২৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পশ্চিম তীরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে এবং এটি বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...