হামলায় চার মার্কিন সেনা নিহতের পর ইরানের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ১৪ দিনের তীব্র বিমান হামলার একটি সামরিক প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, আলোচনার মধ্যে ‘ট্রাম্প সংঘাত বাড়ানোর মেজাজে রয়েছেন’, তবে এই জবাবের ‘পরিসর কতটা হবে’ তা নিয়ে তিনি এখনও চিন্তাভাবনা করছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই পরিকল্পনাটি উত্থাপন করেছেন। পরিকল্পনাটির মূল কৌশল হলো ‘সর্বাত্মক শক্তি প্রয়োগ’ করে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা অচল করে দেওয়া।
অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, ইরানের হুমকি ‘উল্লেখযোগ্যভাবে নিষ্ক্রিয়’ করতে এবং বর্তমান অচলাবস্থা ভাঙতে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বিমান হামলার তীব্রতা বাড়াতে হবে।
তিনি যুক্তি দেন, তেহরানের আক্রমণাত্মক সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতে পারলে পরবর্তীতে মার্কিন বাহিনীকে আর শুধু আত্মরক্ষামূলক অস্ত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে না।
এর আগে কুপারের দেওয়া এক মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছিল, প্রাথমিক বিমান হামলার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুগুলো ‘প্রায় শেষ হয়ে এসেছে’। ফলে নতুন কোনো কৌশলগত সাফল্য পেতে হলে সর্বাত্মক লড়াইয়ের মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘাত বাড়িয়ে তোলা ছাড়া বিকল্প নেই।
অভ্যন্তরীণ মতদ্বৈধতা ও উদ্বেগ
তবে সেন্টকম প্রধানের এই পরিকল্পনার বিপক্ষে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধমূলক মিসাইলের মজুদ কমে যাওয়া’র বিষয়টি তুলে ধরে তিনি হোয়াইট হাউসকে সতর্ক করেছেন।
কেইন জানান, বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা অসম্ভব নয়, তবে গোলাবারুদের ঘাটতির কারণে এটি মার্কিন বাহিনী ও আঞ্চলিক মিত্রদের বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলবে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের খবর ছড়িয়ে পড়লেও পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, অ্যাডমিরাল কুপার এবং জেনারেল কেইন মিশন বাস্তবায়নে সম্পূর্ণ একমত ও ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন।
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

