জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর প্রতিবেশীর বসতঘরের মাটি খুঁড়ে নিখোঁজ এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চরলোটাবর এলাকায় প্রতিবেশী জামিনুর ইসলামের বসতঘরের ভেতর থেকে মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মরিয়ম বুশরা (৭) চরলোটাবর এলাকার বাহাদুর মন্ডলের মেয়ে এবং সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত জামিনুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দুজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার সকালে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বিদ্যালয়ে যায় মরিয়ম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মা ববিতা বেগম বিদ্যালয়ে গিয়ে মেয়েকে না পেয়ে শিক্ষকদের কাছে খোঁজ নেন। শিশুটির সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং ওই দিনই মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেন। শিশুটির সন্ধানে এলাকায় মাইকিংয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার দিবাগত রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, প্রতিবেশী জামিনুর ইসলামের বসতঘরের মেঝেতে একটি শিশুর লাশ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে মরিয়মের লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহত মরিয়মের বাবা বাহাদুর মন্ডল বাদী হয়ে জামিনুর ইসলাম, তার স্ত্রী সবুজা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনকে আসামি করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করেই মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার পেছনের কারণ ও জড়িতদের পুরোপুরি শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার জামিনুর ইসলামকে রোববার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

