সৌদিতে নিহত গণ্ডগোহালী গ্রামের চারজনকে পাশাপাশি দাফন

সৌদিতে নিহত গণ্ডগোহালী গ্রামের চারজনকে পাশাপাশি দাফন

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের লাশ দেশে পৌঁছানোর পর তাদের মধ্যে আত্রাই উপজেলার গণ্ডগোহালী গ্রামের চারজনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার বিকেল ৩টায় গণ্ডগোহালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাদের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

নিহত চারজন হলেন—গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন। তারা সবাই সৌদি আরবের একই সোফা তৈরির কারখানায় একসঙ্গে কাজ করতেন।

লাশ দেশে আসার খবর পাওয়ার পর আগেই গণ্ডগোহালী গ্রামের কবরস্থানে চারটি কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। জানাজা শেষে একসঙ্গে চারটি লাশ কবরস্থানে নেওয়া হয়। কবরস্থানের এক পাশে দুই ভাই মোহন আলী ও সুমন আলীকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। অন্য পাশে একই গ্রামের রুবেল প্রামাণিক ও কলিমুদ্দিনকে দাফন করা হয়।

একসঙ্গে চারজনের লাশ গ্রামে আসায় শোকের ছায়া নেমে আসে গণ্ডগোহালীতে। স্বজনদের আহাজারির পাশাপাশি কান্নায় ভেঙে পড়েন গ্রামের মানুষ। প্রিয়জনদের শেষ বিদায় জানাতে কবরস্থানে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা।

গণ্ডগোহালী গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান বলেন, ‘৪৭ বছরের জীবনে কখনো এতগুলো লাশ একসঙ্গে দাফন করতে দেখিনি। গ্রাম থেকে একসঙ্গে চারজনের বিদায় সত্যিই আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। আমরা চাই না এমন কোনো ঘটনা এই গ্রামে আবার ঘটুক।’

গ্রামের আরেক বাসিন্দা ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর থেকেই আমাদের খাওয়া-ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে না। আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না ছেলেগুলো আমাদের রেখে এভাবে চলে গেছে। পরিবারগুলো একা হয়ে গেল।’

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টায় আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে নিহতদের সম্মিলিত জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে লাশগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা লাশগুলো নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।

জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হন। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের লাশ বৃহস্পতিবার দেশে আনা হয়। দেশে আসা নয়জনের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়।

আত্রাই উপজেলায় লাশ আসা নিহত সাতজন হলেন—উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আব্দুল জলিল সরদার।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন