ইরানের এখনো যা কিছু ‘অবশিষ্ট’ আছে তা-ও শেষ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব জলপথটি যারা ব্যবহার করেন সেই সব দেশের ওপর ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ হুমকি দেন।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এটির প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি ভাবছি, আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দিই এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের হাতে এর দায়িত্ব ছেড়ে দিই—তা হলে কী ঘটবে? কারণ আমরা তো এটি ব্যবহার করি না। এটি আমাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্রদের দ্রুত লাইনে নিয়ে আসবে!’
যদিও ইরান বরাবরই বলে আসছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, খোলা। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা বন্ধ না করলে, তাদের মিত্রদের জাহাজকে প্রণালি পার হতে দেওয়া হবে না। তবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি ট্যাংকার প্রণালিটি পার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
তবে ইতোমধ্যে ইরানে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্রের একটি স্থাপনায় হামলার খবর গণমাধ্যমে আসার পর অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ব্যারেল প্রতি ১০৮ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছ- যা মঙ্গলবারের তুলনায় পাঁচ শতাংশ বেশি।
জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। তাই যুদ্ধের শুরু থেকে ন্যাটো ও এশিয়ার মিত্রদের হরমুজে যুদ্ধ জাহাজ পাঠাতে আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। কয়েক দফা আহ্বান সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস, স্পেসসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রায় কোনো দেশ ট্রাম্পের আহ্বানে এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। এগুলো সব ন্যাটোভুক্ত দেশ।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসা জ্বালানির অধিকাংশ আসে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। এশিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও হরমুজে জাহাজ পাঠাবে না বলে জানিয়েছে। শুধু দক্ষিণ কোরিয়া বলেছে তারা ট্রাম্পের আহ্বান বিবেচনা করে দেখবে।
সূত্র: আলজাজিরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

