যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আবারো হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে দেশটির সামরিক কমান্ড। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর তদারককারী সংস্থা খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স রোববার এই সতর্কবার্তা দেয়।
ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থে পাল্টা হামলা চালানো হবে। একই সঙ্গে যেসব দেশ মার্কিন হামলায় নিজেদের ভূখণ্ড বা স্থাপনা ব্যবহারের সুযোগ দেবে, তাদেরও সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছে তেহরান।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজকে বলেন, ইরান ইস্যুতে তিনি এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর্যায়ে রয়েছেন। সামরিক পদক্ষেপ, অর্থনৈতিক চাপ কিংবা চুক্তিÑসব বিকল্পই বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি ট্রাম্প।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একই সময়ে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ চলছে।
ইরান আলোচনার শর্ত হিসেবে যুদ্ধ ও মার্কিন হামলা বন্ধ, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তেহরান আরো জানিয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমেছে। সপ্তাহান্তে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের সপ্তাহে এ সংখ্যা ছিল ৩৫টি। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরো বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই পক্ষই একদিকে সামরিক চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখছে।
সূত্র: আল জাজিরা
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


