ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম

মোংলায় মোতাওয়াল্লির বিরুদ্ধে মসজিদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মোংলায় মোতাওয়াল্লির বিরুদ্ধে মসজিদের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
ছবি: আমার দেশ

বাগেরহাটের মোংলায় মাদানি জামে মসজিদের ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম ও দীর্ঘদিনের ভাড়া-জামানতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মোতাওয়াল্লি মহি উদ্দিন বুলু ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওয়াকফ দলিল গোপন করে মসজিদের সম্পত্তি ওয়ারিশসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি দেখিয়ে নিজের ছেলে-মেয়ের নামে দলিল করে দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় মসজিদের সম্পত্তি ও অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মুসল্লিরা।

অভিযোগ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেলের পাশে ঠাকুরানী খালের সুইচগেট সংলগ্ন এলাকায় সরকারি বরাদ্দ পাওয়া ১৭ দশমিক ০৬ শতক জমিতে মাদানি জামে মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের আয় বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে স্থানীয় বাসিন্দা একে নাজিম উদ্দিন ১৯৭৫ সালের ২৯ জুলাই ১৬৭৬৭ নম্বর দলিলে দ্বিতল ভবনসহ ৬ শতক জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করেন। পরে ওই সম্পত্তি ওয়াকফ স্টেটে তালিকাভুক্ত হয়।

বিজ্ঞাপন

নাজিম উদ্দিনের মৃত্যুর পর তার সন্তান ও ওয়াকফ দলিলের সাক্ষী মহি উদ্দিন বুলু মোতাওয়াল্লির দায়িত্ব নেন। এরপর থেকেই ওয়াকফ সম্পত্তির আয় মসজিদের ফান্ডে জমা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় মুসল্লিদের দাবি, ওয়াকফ করা ভবনের নিচতলায় ১০টি দোকান এবং দোতলায় বাসা রয়েছে। এসব দোকান ও বাসা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ থেকে ৫১ হাজার টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। বর্তমানে মহি উদ্দিন বুলুর ছেলে নুর উদ্দিন ও মেয়ে শারমিন ভাড়ার টাকা উত্তোলন করছেন। তবে এসব অর্থ মসজিদের ব্যাংক হিসাব বা পরিচালনা কমিটির কাছে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া দোকান ভাড়া দেওয়ার সময় জামানত হিসেবে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

কল্পনা জুয়েলার্সের মালিক সুজন দত্ত জানান, মসজিদের প্রয়োজনের কথা বলে তার কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা জামানত নেওয়া হয়। একইভাবে বৌরানি জুয়েলার্সের মালিক সমীর দত্তের কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা জামানত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তাদের অভিযোগ, ওই টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা দেওয়া হয়নি এবং দোকান ছাড়তে চাইলেও জামানতের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।

মাদানি জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন বলেন, সরকারি বরাদ্দ পাওয়া ১৭ দশমিক ০৬ শতক জমিতে মসজিদের পুরোনো ভবন ও কয়েকটি দোকান রয়েছে। দোকান ভাড়া ও মুসল্লিদের দানের অর্থ দিয়ে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু ওয়াকফ সম্পত্তি ও ভবন থেকে পাওয়া কোনো অর্থ মোতাওয়াল্লি কমিটির কাছে দেন না।

এদিকে ওয়াকফ স্টেট খুলনা বিভাগের কর্মকর্তা নুরুজ্জামান জানান, ওয়াকফ দপ্তরে মাদানি মসজিদের ৬ শতক জমিসহ ভবনের তথ্য রয়েছে। মোতাওয়াল্লি মহি উদ্দিন বুলু ওয়াকফ দপ্তরে মসজিদসংলগ্ন এলাকায় সাতটি দোকানের ভাড়ার হিসাব দিয়েছেন। তবে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া ১৭ দশমিক ০৬ শতক জমির বিষয়টি তাদের জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে মোতাওয়াল্লি মহি উদ্দিন বুলু দাবি করেন, তার ছেলে নুর উদ্দিন জোর করে তার কাছ থেকে ওই জমির দলিল নিয়ে নিয়েছেন এবং মেয়েকেও কিছু অংশ দেওয়া হয়েছে। ভাড়ার টাকা মসজিদের ফান্ডে জমা দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার মেয়ে শারমিন অনেক টাকা দেনায় রয়েছেন। সেই দেনা পরিশোধে ভাড়ার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

মসজিদের সম্পত্তি ও আত্মসাতের অভিযোগ ওঠা অর্থ উদ্ধারের দাবিতে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন