আঞ্চলিক উত্তেজনা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নতুন করে হামলার প্রেক্ষাপটে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। রোববার দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে ফোনালাপে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় পারস্পরিক সমন্বয় আরো জোরদারের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে ওই ফোনালাপ হয়। এতে দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং উত্তেজনা আরো ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
দুই মন্ত্রী নিজেদের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় এবং রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে পরামর্শ আরো জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। এর লক্ষ্য উপসাগরীয় দেশগুলোর যৌথ পদক্ষেপকে শক্তিশালী করা এবং উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সম্পদ সুরক্ষিত রাখা।
সম্প্রতি উপসাগরীয় দেশগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সৌদি আরবের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনায় হুথিদের হামলার ঘটনাও রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেই সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ হলো।
এর আগে রোববার নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সম্পদ নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো নিজেদের ভূখণ্ড, স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের ওপর হামলা মেনে নেবে না।
তবে একই বক্তব্যে ফয়সাল বিন ফারহান সংঘাতের পরিবর্তে উত্তেজনা প্রশমন ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার দিকে যাওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা জরুরি।
আঞ্চলিক উত্তেজনা আরো বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যে সৌদি-আমিরাতের এই সমন্বয় উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক অবস্থানে পারস্পরিক ঐক্যের ওপর নতুন করে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

