নোয়াখালী সদরে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর ‘ট্রিপল মার্ডারের’ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো. সৌরভ (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেনÑবেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে নোয়াখালী সরকারি কলেজ-সংলগ্ন হোস্টেলের পুকুরে কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই দিন সন্ধ্যার পর স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে আনোয়ারের বন্ধু রাজিব, ওয়াসিমও উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এজাহারভুক্ত আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আসামি সাজু, সৌরভ ও সুলতান এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত রাজিবের স্ত্রী কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে সুধারাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও ১ নম্বর অতিরিক্ত আদালতের পিপি ও মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ নোয়াখালী পুরাতন কলেজের পাশে একটি সালিশকে কেন্দ্র করে কতিপয় সন্ত্রাসী ভিকটিম রাজিব ইয়াসিন ও ওয়াসিমকে গুলি করে হত্যা করে। ওই মামলা নোয়াখালী বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. শওকত আলী ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রায় প্রদান করেন। গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।
মামলার বাদী নিহত রাজীবের মা ও তার বড় ভাই আরিফুর রহমান মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারাও অভিযোগ করেন, বিগত ১০ বছরেও পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমরা পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকর করা হোক।
আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

