অধিকৃত পশ্চিম তীরের আর্ন্তজাতিকভাবে ইসরাইলিদের জন্য নিষিদ্ধ তিল গ্রামের কাছে গোলাগুলির ঘটনায় এক ইসরাইলি এবং বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের এ হামলার ঘটনায় পূর্বপরিকল্পিত ছিল না বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি আর্মি রেডিও।
তদন্তের বরাত দিয়ে সম্প্রচারমাধ্যমটি জানিয়েছে, শুক্রবার ইসরাইলিদের একটি দল সেনাবাহিনীর সাথে আগে থেকে কোনো সমন্বয় না করেই ওই গ্রামের বাইরে একটি পাহাড়ের কাছে ‘এ’ এবং ‘বি’ জোনে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সেনাবাহিনী এই ধরনের সমন্বয়হীন চলাচলকে বিপজ্জনক বলে মনে করে।
বর্ণনা অনুযায়ী, ইসরাইলি দলটি তিল গ্রামে প্রবেশ করার পর ফিলিস্তিনিরা তাদের দিকে এগিয়ে এলে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। এরপর ইসরায়েলিরা ঘটনাস্থলে সেনাদের ডেকে পাঠায় এবং এক ফিলিস্তিনি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে কয়েকজন অস্ত্রটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনে আগেই জানিয়েছিল যে, তিল গ্রামের মেয়র এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেছেন, ‘হামলার ঘটনার অন্যান্য বিবরণ নির্দেশ করে যে ইসরাইলি বাহিনী সেখানে উপস্থিত সবার ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছিল।’
সেনাবাহিনী এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, দুই পক্ষের হাতাহাতি থেকেই গোলাগুলির সূচনা হয় এবং এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা ছিল না।
ওসলো চুক্তি অনুযায়ী, ‘এ’ এবং ‘বি’ এলাকা হলো পশ্চিম তীরের এমন দুটি অঞ্চল যা সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রশাসনাধীন। সাধারণত সামরিক সমন্বয় ছাড়া ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিকদের ‘এ’ জোনে প্রবেশ করা নিষিদ্ধ।
এদিকে, তিল গ্রামের গোলাগুলির ঘটনায় যুক্ত থাকা বহু ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করার উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস শহর এবং এর আশপাশের গ্রামগুলোতে একটি ব্যাপকভিত্তিক সামরিক অভিযান শুরু করছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি আর্মি রেডিও।
ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ জানিয়েছে, এই ঘটনার পর ইসরাইলি সেনাবাহিনী ঘোষণা করেছে যে তারা ‘সেনাদের ছুটি বাতিল করবে’ এবং প্যারাটুপার্স ব্রিগেডসহ পাঁচটি কোম্পানি মোতায়েন করে অধিকৃত পশ্চিম তীরে অতিরিক্ত সেনা সরবরাহ জোরদার করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


