সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান গত শুক্রবার ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তিতে তিন দেশ যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, তিন দেশের যে কোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা এবং ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই জোট গঠন করা হয়েছে।
দেশগুলোর সম্মিলিত সামরিক শক্তি: ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার ইনডেক্স’ অনুযায়ী, এই তিনটি দেশ মিলে একটি বিশাল সামরিক ব্লক তৈরি করেছে:
জনবল: এদের সম্মিলিত সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। জনবলের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে পাকিস্তান। দেশটির সক্রিয় সামরিক সদস্য প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার। তুরস্কে এ সংখ্যা ৪ লাখ ৮১ হাজার এবং সৌদি আরবে ২ লাখ ৪৭ হাজার সৈন্য রয়েছে ।

আকাশপথ: বিমান শক্তিতেও তিন দেশ মিলে বড় সক্ষমতা তৈরি করেছে। পাকিস্তানের রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৯৭টি সামরিক বিমান, তুরস্কের ১ হাজার ১০১টি এবং সৌদি আরবের ৯১৭টি। সব মিলিয়ে তাদের বহরে রয়েছে যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার, পরিবহন ও প্রশিক্ষণ বিমানসহ ৩ হাজার ৪১৫টি সামরিক উড়োজাহাজ।
স্থলশক্তি: স্থলবাহিনীর ক্ষেত্রেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য শক্তি। তিন দেশের সম্মিলিত ট্যাংকের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার ৪৬টি এবং সাঁজোয়া যানের সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজারের বেশি। পাকিস্তানের হাতে ২ হাজার ৬৭৭টি ট্যাংক, তুরস্কের ২ হাজার ২৮৪টি এবং সৌদি আরবের ১ হাজার ৮৫টি ট্যাংক রয়েছে।
নৌশক্তি: তিন দেশের সম্মিলিত বহরে রয়েছে ৩৪৪টি নৌযান। এর মধ্যে ৩৩টি ফ্রিগেট, ২৪টি করভেট এবং ২২টি সাবমেরিন রয়েছে। তুরস্কের নৌবহরে রয়েছে ১৯২টি নৌযান, পাকিস্তানের ১২০টি এবং সৌদি আরবের ৩২টি।

প্রতিরক্ষা বাজেট: তিন দেশের সম্মিলিত বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ১২৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সৌদি আরব ২০২৬ সালে প্রতিরক্ষায় প্রায় ৬৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার, তুরস্ক ৫১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার এবং পাকিস্তান ৯ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তিন দেশ একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। যেখানে সৌদি আরব দেশটির মূলধন, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে জোটকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, তুরস্ক তার উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্প, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ন্যাটোর সামরিক অভিজ্ঞতা দিয়ে সহায়তা করবে। আর পাকিস্তান দেশটির বিশাল জনবল, পেশাদার সামরিক বাহিনী এবং সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সক্ষমতা প্রদান করবে।
জনবল, বিমান, স্থলবাহিনী, নৌ সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা ব্যয়—সব দিক মিলিয়ে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই জোট মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


