প্রশাসনের চেয়ারে বসে দলীয় রাজনীতি না করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতারা। তারা বলেছেন, প্রশাসনের দায়িত্বে থেকে দলীয়করণ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শনিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার বাঁশখালীতে স্বাগত মিছিল ও সমাবেশ করে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী।
মিছিলটি পৌরসভার জলদি বাসস্টেশন থেকে শুরু হয়ে প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। এর আগে লংমার্চ সফল করতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজার এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।
মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মুহাম্মদ বদরুল হক।
উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসমাইলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন পৌরসভা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আবু তাহের, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফ উল্লাহ এবং বাঁশখালী উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা জোবায়ের আহমদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শহিদ উল্লাহ।
সমাবেশে উপজেলা প্রশাসনের উদ্দেশে বক্তব্য দেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফ উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহেব, আপনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আপনি দলের সভাপতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দলীয়করণের মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগ দিয়েছেন একটি বিশেষ দলের লোকজনকে। আপনি যদি প্রশাসনের চেয়ারে বসেন, তাহলে রাজনীতি ছাড়ুন। আর রাজনীতি করতে হলে রাজপথে আসুন। প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাকে দলীয়করণ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করছি।’
উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ দেশ থেকে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। নতুন করে কেউ ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠলে এ দেশের মুক্তিকামী জনতা তা মেনে নেবে না। অফিস-আদালতসহ সর্বস্তরে যে দলীয়করণ চলছে, এ বৈষম্য দেশের জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ বদরুল হক বলেন, ‘অনতিবিলম্বে জনগণের গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ পরিচালনা করতে হবে। দেশের সর্বত্র দলীয়করণ চলছে। স্কুল-কলেজের পরিচালনা কমিটিতেও আপনারা দলীয় নেতাদের নির্বাচিত করেছেন। বাঁশখালী-সাতকানিয়ায় এ বৈষম্য কেন করতে হলো, তার জবাব প্রশাসনকে দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বলতে চাই, উপজেলা থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার যাদের নাম বাছাই করে পাঠান, সেগুলো কীসের ইঙ্গিতে বাদ দিয়ে নতুন করে দলীয় লোকদের নির্বাচিত করা হলো? আমাদের বাধ্য করবেন না। আমরা প্রয়োজনে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।’
অধ্যক্ষ বদরুল হক বলেন, ‘আপনি একজন জনগণের নির্বাচিত সংসদ সদস্যের ডিও লেটার উপেক্ষা করে কার ইশারায় নিয়ম লঙ্ঘন করছেন? গণতন্ত্রের নামে কোনো অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এ দেশের জনগণ মেনে নেবে না।’
সমাবেশে উপজেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এনামুল হক জেহাদী, মাওলানা মহি উদ্দিন, অফিস সম্পাদক মুজিবুর রহমান, শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক মতুর্জা আলী, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মুহাম্মদ খোরশেদ আলী চৌধুরীসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আমির-সেক্রেটারি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

