ইরানের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাজ্য থেকে বি-১ বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের হামলার শঙ্কায় যুক্তরাজ্য থেকে বি-১ বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র
২৮ সেপ্টেম্বর আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর কর্মীরা একটি বি-১ বোমারু বিমানে কাজ করছেন। ছবি: এপি

ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, জরুরি ভিত্তিতে বি-১ বোমারু বিমানগুলো ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়।

এর আগে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, নিরাপত্তার কারণে সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর চলাচল তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল না। তবে এখন নিশ্চিত করা যাচ্ছে, ফেয়ারফোর্ডে মোতায়েন থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।

ঠিক কী কারণে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরু হয়। সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে অংশ নেওয়া মার্কিন বোমারু বিমানগুলোর জন্য ফেয়ারফোর্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিটি অবস্থিত। ইরানকে ঘিরে ওই ঘাঁটিতে ‘সন্ত্রাসী’ হামলার পরিকল্পনার গুঞ্জনও রয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক পুঁতে রাখার পরিকল্পনার সন্দেহ ছিল। ইরান এমন কোনো পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করেছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরদিন কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত ভ্যান থেকে পেট্রল পাওয়া গেলেও কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।

তবে যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পুলিশ জানায়, লন্ডনে ২৫ বছর বয়সি এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম ইঙ্গিত দেন, ওই কথিত হামলার পরিকল্পনায় ‘ইরানের ভূমিকা ছিল’। তবে তিনি এর বিস্তারিত জানাননি।

সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশিংয়ের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়ক ভিকি ইভান্স এক বিবৃতিতে বলেন, গ্লুচেস্টারশায়ারের ঘটনাগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত অত্যন্ত জটিল। বিশেষায়িত দলগুলো তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।

তিনি বলেন, সব সম্ভাব্য দিক বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রাথমিক গ্রেপ্তারের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ওই ব্যক্তিরা মার্কিন স্থাপনায় ‘বড় ধরনের ক্ষতি’ করার চেষ্টা করছিলেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ছিল অসাধারণ। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্র অসাধারণ ফল পেয়েছে। সন্দেহভাজনদের দীর্ঘ সময় নজরদারিতে রাখা হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরান।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন যুদ্ধে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল।

ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে অতীতেও যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। ২০০৩ সালে এক ঘটনায় পাঁচজন বিক্ষোভকারী ঘাঁটিতে ঢুকে পড়েছিলেন। ইরাক আক্রমণে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে যাচ্ছিল, সেগুলো ধ্বংসের চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে অংশ নেয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ থাকলেও এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

তবে যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে যুক্তরাজ্য দ্বিধায় ছিল। পরে মার্চে ফেয়ারফোর্ড ও আরএএফ দিয়েগো গার্সিয়াসহ কয়েকটি ঘাঁটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাজে ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দেয়।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন