মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর নারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

মাদক মামলায় গ্রেপ্তারের পর নারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জে মাদক উদ্ধারের নামে থানা পুলিশের নির্যাতনে নাদিয়া বেগম (৩৮) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরিশালে জেলহাজতে পাঠানোর সময় আদালত চত্বরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন নাদিয়া। পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর বরিশাল জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাকেরগঞ্জ থানা পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় উপজেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

থানা পুলিশ সূত্র জানায়, বাকেরগঞ্জকে মাদকমুক্ত করতে গত এক সপ্তাহ ধরে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠী গ্রামে অভিযান চালিয়ে নাদিয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ তাকে মাদকবিক্রেতা হিসেবে দাবি করেছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে সকালে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাদিয়ার কাছ থেকে তিনটি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাকে বরিশাল কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে আদালত চত্বরে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। বর্তমানে তার মরদেহ শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।

তবে পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন নাদিয়ার স্বামী এনামুল হক মন্টু গাজী। সাংবাদিকদের কাছে তিনি অভিযোগ করেন, ভরপাশা ইউনিয়নের কৃষ্ণকাঠীতে জমি নিয়ে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সঙ্গে তাদের পুরোনো বিরোধ রয়েছে। জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশ করে বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা এসআই তোফাজ্জল হোসেনকে দিয়ে তার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এনামুল হক মন্টুর দাবি, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। ওই সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। পুলিশ দরজা-জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে এবং সেখানে থাকা ১ লাখ ১৯ হাজার ৪০০ টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে ওই টাকা থেকে ১৯ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার দেখানো হয়েছে বলেও দাবি তার।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, নাদিয়ার কাছ থেকে বা তার বসতঘর থেকে কোনো মাদক উদ্ধার করা হয়নি। তাকে থানায় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয় এবং এর ফলেই তার মৃত্যু হয়েছে। নাদিয়ার আড়াই বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে পুলিশ বলছে, নাদিয়ার সঙ্গে থাকা ইয়াবা সেবনের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে—প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা করা হচ্ছে।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বাকেরগঞ্জ সার্কেল) মাসুম বিল্লাহ বলেন, বাকেরগঞ্জে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। এরই অংশ হিসেবে নাদিয়া বেগমকে আটক করা হয়। আটকের পর তাকে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আদালত চত্বরে ওই নারীর মৃত্যু হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মাসুম বিল্লাহ আরো বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে কেউ আটক হলে এ নিয়ে নানা ধরনের কথা ছড়াতে পারে। তবে কোনো পুলিশ সদস্য অন্যায় বা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি মাদক নির্মূলে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

এদিকে বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন