গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংঘাতের পটভূমি নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘ইরান: দ্য মেকিং অব আ ওয়ার’। তৎকালীন ভূরাজনীতি কীভাবে আজকের প্রত্যক্ষ সংঘাতের জন্ম দিয়েছে, প্রামাণ্যচিত্রটিতে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৫৩ সালে সিআইএ-র নেতৃত্বে পরিচালিত এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি সেই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শুরু হয়ে দেশটির পরবর্তী নানা রাজনৈতিক রূপান্তর পর্যবেক্ষণ করে।
এতে দেখানো হয়, কীভাবে মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনামলে পশ্চিমা শক্তির মিত্র থাকা রাজতন্ত্র একপর্যায়ে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ‘ইসলামি বিপ্লব’-এ পরিণত হয়।
ইসলামি বিপ্লব ও তেহরানে মার্কিন জিম্মি সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের পুরোপুরি অবসান ঘটে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গেও তেহরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র রূপ নেয়।
পরবর্তী দশকগুলোতে প্রক্সি যুদ্ধ বা পরোক্ষ লড়াই, গোপন সামরিক অভিযান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক বিরোধই দেশটির এই দীর্ঘ সংঘাতময় অবস্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে।
‘ইরান: দ্য মেকিং অব আ ওয়ার’ প্রামাণ্যচিত্রে মূল অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে এসেছে—কীভাবে এই দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক উত্তেজনা একসময় সরাসরি সামরিক মুখোমুখি অবস্থানে রূপ নিল এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর কতটা বিপজ্জনক ও গুরুতর প্রভাব তৈরি হলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

