দিনাজপুরের বিরামপুরে বিজিবি ও গ্রামবাসীর বাধায় বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
বিরামপুর উপজেলার গোবিন্দপুর সীমান্ত দিয়ে ২০ থেকে ২৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পরে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা ভারতে ফিরে যায়। এ ঘটনার পর ওই এলাকা দিয়ে পুশইন ঠেকাতে বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
রোববার রাত ১১টার দিকে উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর বিওপির গোবিন্দপুর সীমান্তের ২৮৯/৪৬ এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার মাহবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বিজিবি জানায়, রাত ১১টার দিকে ভারত কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে বেশ কিছু ভারতীয়কে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বাংলাদেশে প্রবেশের সময় স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে তাদের ধাওয়া করেন। পরে তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিএসএফ।
সরেজমিনে রাত সাড়ে ১২টার দিকে সীমান্তের গোবিন্দপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে লাঠি হাতে স্থানীয় পুরুষের পাশাপাশি নারীরা গ্রামের মোড়ে মোড়ে অবস্থান করছেন। পোস্টের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন আছেন।
রাখেন মোল্লা নামে এক যুবক জানান, রাতে আমি বাড়ির পাশে মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় বেশ কিছু ভারতীয় বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। আমি চিল্লাচিল্লি করলে পোস্টে থাকা বিজিবি এবং গ্রামবাসী সেখানে উপস্থিত হন। পরে বিএসএফের সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন জানান, প্রথম দিকে তাদের প্রতিহত করলে এর বেশ কিছুক্ষণ পর পাশের একটি এলাকা দিয়ে আবারও চেষ্টা করে। সেখানে গ্রামবাসী বাধা দিলে তারা সেখান থেকেও ফিরিয়ে নেন।
শূন্যরেখায় বসবাস করা ভারতীয় নাগরিক নুর ইসলাম বলেন, ‘আমি দেখেছি তারা ২৮ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী এবং চব্বিশ জন পুরুষ। তাদের মধ্যে বেশ কিছু বিএসএফ এবং ভারতীয় পুলিশ সদস্য ছিলেন।
এ ব্যাপারে দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুর রহমান বলেন, পুশইনের ঘটনা আমরা প্রতিহত করেছি। স্থানীয় গ্রামবাসী আমাদের সহায়তা করেন। আমাদের পাশাপাশি গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে টহল দিচ্ছেন। পুশইন ঠেকাতে এই এলাকায় আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

