যুদ্ধ মোকাবিলায় ৪ অগ্রাধিকার ইরানের

যুদ্ধ মোকাবিলায় ৪ অগ্রাধিকার ইরানের
ছবি: এপি

ভবিষ্যতের যেকোনো সম্ভাব্য সংঘাত বা যুদ্ধ মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে ইরানের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রধান চারটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মজিদ ইবন আল-রেজা। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক উদ্দেশ্য ব্যর্থ হলেও কোনো ধরনের আত্মতুষ্টিতে না ভোগার জন্য কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন তিনি।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প খাতের বিজ্ঞানীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে মজিদ ইবন আল-রেজা এই দিকনির্দেশনা দেন।

ভাষণে তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা খাতের চারটি প্রধান অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেন। এগুলো হলো—মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্যের শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন, দেশের শিল্প অবকাঠামোর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি এবং ‘প্রতিরক্ষা অর্থনীতি’।

প্রতিরক্ষা অর্থনীতির ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, দেশীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে কার্যকর, সাশ্রয়ী, সুসংগঠিত এবং বিপুল পরিমাণে তৈরি করা যা এমন সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত করাই এর মূল লক্ষ্য।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলো (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র) তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হলেও এখনই নিশ্চিন্ত হয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্য এবং শত্রুর লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কারণে অনেকে হয়তো আজ শত্রুর বিভ্রান্তি, কৌশলগত অচলাবস্থা ও সীমিত হয়ে আসা পথ নিয়ে কথা বলতে পারেন। তবে এসব মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে আমাদের বসে থাকলে চলবে না বা আত্মতুষ্ট হওয়া যাবে না। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আগের চেয়েও দ্বিগুণ গতিতে উদ্ভাবন, প্রস্তুতি ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে।’

উল্লেখ্য, গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমাদের চরম অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হলেও ইরান নিজেদের প্রযুক্তিতে কম খরচে ক্ষিপ্রগতির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সাফল্য দেখিয়েছে। এর ফলে ইরান খুব কম খরচে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম হচ্ছে, অন্যদিকে শত্রুপক্ষকে সেই হামলা ঠেকাতে লাখ লাখ ডলার খরচ করতে হচ্ছে। দেশীয় এই উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তি আরো বাড়ানোর ওপর জোর দেন ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন