ইরানের কাছে ট্যাংকার বিকল করল মার্কিন বাহিনী, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা

ইরানের কাছে ট্যাংকার বিকল করল মার্কিন বাহিনী, যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা
হরমুজ প্রণালিতে বারবার হামলার শিকার হচ্ছে বাণিজ্যিক জাহাজ। ছবি: পিবিএস

ইরান সীমান্তের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ বিকল করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সংঘাত কেবল ইরান সীমানার মধ্যে আর সীমাবদ্ধ থাকছে না এবং তা আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিচ্ছে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র এবং মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, ট্যাংকারটির ক্রু অন্তত চারবার আরোপিত অবরোধ ভেঙে সামনের দিকে এগোনোর চেষ্টা করেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ক্যাপ্টেন হকিন্স বলেন, ‘জাহাজের ক্রুদের বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও তারা আদেশ মানেননি। পরে ঘটনাস্থলে থাকা মার্কিন বাহিনী জাহাজটির ইঞ্জিনরুমে গুলি চালিয়ে সেটিকে বিকল করে দেয়। বর্তমানে জাহাজটির ইরান অভিমুখে যাত্রা বন্ধ রয়েছে।’

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনাকে তাদের সামরিক অবরোধ বাস্তবায়নের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরলেও এটি মূলত সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। ওয়াশিংটনসহ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন মিত্ররা এত দিন ধরে এ ধরনের পরিস্থিতিই এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছিল, যা পুরো অঞ্চলকে একটি বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।

এদিকে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বাবেল মান্দেব প্রণালির অবরোধ সরাতে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব নতুন করে আরো সামরিক হামলা চালাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকেরা।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘অ্যাটলান্টিক কাউন্সিলের’ সিনিয়র ফেলো থমাস ওয়ারিক বলেন, ‘মূল প্রশ্ন হলো হুতিদের লোহিতসাগর ও বাবেল মান্দেবে হামলা বন্ধ করতে কতটা চাপ দেওয়া প্রয়োজন। এটি তাদের জন্য একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। হুতিদের অবস্থান পরিবর্তনের জন্য সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশ থেকে আরো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।’

ওয়ারিক আরো জানান, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভঙ্গ করেছে হুতিরা। ওই চুক্তিতে বাবেল মান্দেব প্রণালি দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইয়েমেনি গোষ্ঠীটি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সামরিক ক্ষমতা ও সরঞ্জাম রয়েছে উল্লেখ করে থমাস ওয়ারিক বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব বা অন্যান্য দেশ বাবেল মান্দেব প্রণালিতে হুতিদের এই অবরোধ বেশি দিন সহ্য করবে না। এখন দেখার বিষয়, হুতিদের এই হামলা বন্ধ করতে ঠিক কতটা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে হয়।’

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন