একদিকে গির্জা ও খ্রিস্টান স্থাপনাগুলোতে ইসরাইলি হামলার ঘটনা ঘটছে অন্যদিকে নেতানিয়াহু দাবি করছেন ইসরাইল খ্রিস্টানদের সুরক্ষা দেয় এবং খ্রিস্টানরা ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত হতে চায়। তিনি আরো দাবি করেন, লেবাননের কিছু খ্রিস্টান গ্রাম ইসরাইলের সুরক্ষা পাওয়ার জন্য দেশটির সঙ্গে যুক্ত (অ্যানেক্স) হতে চেয়েছে। লেবাননের গির্জা ও খ্রিস্টানদের বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার ঘটনার পর তার এই মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের দ্য সানডে ব্রিফিং অনুষ্ঠানে সঞ্চালক জ্যাকি হাইনরিখকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা আমাদের বন্ধুদের, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের খ্রিস্টানদের দেখভাল করি। লেবাননের কিছু খ্রিস্টান গ্রাম আমাদের সুরক্ষার কারণে ইসরাইলের সঙ্গে যুক্ত হতে চেয়েছে। আমরা তাদের হিজবুল্লাহর হাত থেকে রক্ষা করি।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর বক্তব্য ইসরাইলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন ও গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে লেবাননে ইসরাইলি হামলায় গির্জা, কনভেন্ট ও অন্যান্য খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি বছরের মে মাসে ফরাসি সংগঠন ল’ওভর দ’ওরিয়ঁ জানায়, দক্ষিণ লেবাননের ইয়ারুন গ্রামে গ্রিক ক্যাথলিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সালভেটোরিয়ান সিস্টার্সের একটি কনভেন্ট ইসরাইলি বাহিনী গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
এপ্রিল মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে এক ইসরাইলি সেনাকে দক্ষিণ লেবাননে যিশু খ্রিস্টের একটি ক্রুশবিদ্ধ মূর্তি ভাঙতে দেখা যায়। পরে আরেকটি ভিডিওতে এক সেনাকে মেরির মূর্তি অবমাননা করতেও দেখা যায়। এছাড়া গত বছর দক্ষিণ লেবাননের ডেরদঘাইয়া গ্রামের সেন্ট জর্জ গ্রিক ক্যাথলিক চার্চ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
এদিকে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, পুরো লেবানন পুড়ে যাওয়া উচিত।
অন্যদিকে, গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।
সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, শুধু খ্রিস্টানরাই নয়, লেবাননের দ্রুজ, সুন্নি এবং কিছু শিয়া মুসলিমও ইসরাইলের সুরক্ষা চায়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি সামরিক অভিযান শুরুর পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ৩০৪ জন নিহত এবং ১২ হাজার ২০৩ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



হরমুজ ইস্যুর মধ্যেই মালাক্কা প্রণালি উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা সিঙ্গাপুর-ইন্দোনেশিয়ার