ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা

জাতিসংঘের কূটনীতিকের পদত্যাগ

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্কবার্তা

ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কা নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে জাতিসংঘ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক মোহাম্মদ সাফা। তিনি অভিযোগ করেছেন, সংস্থাটি এমন এক পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে ইরানে পারমাণবিক হামলার ঝুঁকি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট ও দীর্ঘ চিঠির মাধ্যমে তিনি তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন।

মোহাম্মদ সাফা ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা প্যাট্রিয়টিক ভিশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা পেয়ে থাকে। ২০১৬ সালে তাকে জাতিসংঘে সংস্থাটির স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়। নিজের পদত্যাগের পেছনে তিনি জাতিসংঘের শীর্ষপর্যায়ে একটি ‘প্রভাবশালী লবির’ প্রভাবকে দায়ী করেছেন।

তেহরানের একটি ছবি সংযুক্ত করে দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, পরিস্থিতির ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষ সচেতন নয় এবং জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।

যুদ্ধপন্থি অবস্থানের সমালোচনা করে সাফা বলেন, তেহরান কোনো জনশূন্য এলাকা নয়; সেখানে প্রায় ১ কোটি মানুষের বসবাস। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনের মতো শহরে এমন হামলা হতো, তাহলে তার পরিণতি কী হতো?

তিনি দাবি করেন, এ তথ্য প্রকাশ করার জন্যই তিনি নিজের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছেন এবং মানবতাবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের অংশ না হওয়ার জন্য দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। সম্ভাব্য ‘পারমাণবিক শীতকাল’ ঠেকাতে তিনি আগাম সতর্কতা হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ‘নো কিংস’ স্লোগানের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে এবং এ বিষয়ে বিশ্ববাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে নামার আহ্বান জানান।

সাফা আরও জানান, তিনি ২০২৩ সাল থেকেই পদত্যাগের কথা ভাবছিলেন এবং দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তার অভিযোগ, জাতিসংঘের কিছু কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন।

এছাড়া, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত দেওয়ার কারণে তিনি সমালোচনা, হুমকি ও সেন্সরশিপের মুখোমুখি হয়েছেন বলেও দাবি করেন।

তবে এই পদত্যাগ ও অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...