মস্কোয় ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নিহত ৪

মস্কোয় ইউক্রেনের নজিরবিহীন ড্রোন হামলা, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নিহত ৪
ছবি: সংগৃহীত।

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় রোববার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন বলে দাবি করেছেন নগরটির মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। রাশিয়ার পার্লামেন্টের নির্বাচনের শেষ দিনে এ হামলা চালানো হয়। হামলায় মস্কো অঞ্চলে দুজন এবং রুশ নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের খেরসন অঞ্চলে আরও দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন নির্বাচন কর্মকর্তা রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে সোবিয়ানিন বলেন, হামলায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ওই স্থাপনাটিও ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘শত্রুপক্ষের ড্রোন দিয়ে চালানো সবচেয়ে বড় হামলাটি প্রতিহত করা হয়েছে। নির্বাচনকে ব্যাহত করার লক্ষ্যেই যে এই নজিরবিহীন হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট। তবে শত্রুরা সফল হতে পারেনি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটি রাশিয়ার প্রথম স্টেট ডুমা নির্বাচন। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি সহজেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখবে। সমালোচকদের অভিযোগ, দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ভিন্নমতের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ নেই।

রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সাইবার হামলার খবর পাওয়া গেলেও তিন দিনের ভোটগ্রহণ বড় ধরনের বাধা ছাড়াই চলছে। রোববার সকাল নাগাদ স্টেট ডুমা ও আঞ্চলিক নির্বাচনে ভোট পড়ার হার ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা।

এদিকে অধিকাংশ যুদ্ধবিরোধী প্রার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। উদারপন্থি ইয়াবলোকো পার্টির যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের কয়েকজনও নির্বাচনের আগে দলটির দুই শীর্ষ নেতার দীর্ঘ কারাদণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে সরকারের অবস্থানের বিরোধিতা কিংবা সেনাবাহিনীকে ‘অসম্মান’ করার অভিযোগে রাশিয়ায় দীর্ঘ কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

প্রতিবাদের প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে ইয়াবলোকোর নেতা নিকোলাই রিবাকভ ব্যালট নষ্ট করে সেখানে দলের নামের সঙ্গে ‘শান্তির জন্য’ স্লোগান লিখেছেন।

ক্রেমলিনের ভাষ্য, ইউক্রেনে চলমান সামরিক অভিযানের সময়ে জাতীয় ঐক্য ও কিছু ক্ষেত্রে সেন্সরশিপ প্রয়োজন। মস্কো এ যুদ্ধকে পশ্চিমাদের সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে রুশ কর্তৃপক্ষের দাবি, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভিন্ন পক্ষ রাশিয়ার অভ্যন্তরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা বাড়িয়েছে।

সূত্র: সিএনবিসি, রয়াটর্স

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন