দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বহুল আলোচিত বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক এবং বৈঠক-পরবর্তী যৌথ বিবৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে। পুশইন নিয়ে যখন দুদেশের সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ঠিক সেই মুহূর্তে অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকের পর দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে পুশইন শব্দটাই নেই।
যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত হত্যার বদলে লেখা হয়েছে সীমান্তে সংঘটিত মৃত্যু। এদিকে যৌথ বিবৃতির পাশাপাশি বিজিবির পক্ষ থেকে পৃথক একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে পুশইন এবং সীমান্ত হত্যার মতো ইস্যুগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। অথচ, বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুগুলো যৌথ বিবৃতিতে নেই, যা রীতিমতো রহস্যজনক এবং বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করেছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দিল্লিতে ঠিক কী ঘটেছে, বিজিবি প্রধানকে সংবাদ সম্মেলন করে জাতির সামনে তা পরিষ্কার করতে হবে। কারণ, এবারের বৈঠক নিয়ে নানা ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। তবে বিজিবি প্রধান এবারের বৈঠক নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন এবং অভিযোগ সম্পর্কে বলেছেনÑবৈঠক নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হচ্ছেÑতা তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।
ঢাকা ও দিল্লির সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সূত্রগুলো আমার দেশকে জানিয়েছে, সীমান্তে বিজিবি যে ধরনের শক্ত অবস্থান নিয়েছে, দিল্লি বৈঠকে তাদের অবস্থান ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। বিজিবি কর্মকর্তারা দিল্লি বৈঠকে বাংলাদেশের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে না ধরে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে এক ধরনের আপোসকামী অবস্থান নেন। বিএসএফের দাবিমতো যৌথ বিবৃতিতে সম্মতি দিয়েছেন। অন্যদিকে সমালোচনা এড়াতে আলাদা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন, যার সঙ্গে যৌথ বিবৃতির বিস্তর ফারাক রয়েছে। যৌথ বিবৃতিতে ভারতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো প্রাধান্য পেলেও বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলো ছিল রীতিমতো উপেক্ষিত।
পুশইন ইস্যু নিয়ে চলমান চরম সীমান্ত উত্তেজনার মাঝে গত ৮ থেকে ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয় এবারের বিজিবি-বিএসএফ শীর্ষ বৈঠক। বৈঠকে বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। অন্যদিকে বিএসএফের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রতিটি শীর্ষ বৈঠকের পর একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার কোনো ধরনের সংবাদ সম্মেলন হয়নি। এর পরিবর্তে বৈঠকের একদিন পর বিএসএফের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা হয় যৌথ বিবৃতি। এতে বলা হয়, অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে এবারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উভয়পক্ষ সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। সীমান্তে সমন্বিত টহল জোরদার, নজরদারি বাড়ানো, আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ পদক্ষেপ জোরদার করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।
যৌথ বিবৃতিতে চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি অবৈধ সীমান্ত পারাপার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, দুদেশের প্রতিনিধি দল ‘সীমান্তে সংঘটিত মৃত্যু’, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ ও বিদ্রোহী কার্যকলাপ বন্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়েছে। তবে যৌথ বিবৃতিতে সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ‘পুশইন’ ইস্যুটি কোনোভাবেই তুলে ধরা হয়নি। অতীতের যেকোনো বিবৃতিতে ‘সীমান্ত হত্যার’ বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও এই প্রথমবারের মতো যৌথ বিবৃতিতে সীমান্ত হত্যার পরিবর্তে ‘সীমান্তে মৃত্যু’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে এই যৌথ বিবৃতি সম্পর্কে কোনো ধরনের মন্তব্য না করে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক নিয়ে আলাদা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিজিবি। এই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি বিএসএফের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতির তুলনায় অনেক বিস্তৃত এবং এখানে ‘পুশইন’, ‘সীমান্ত হত্যা’, সীমান্তে অবৈধ অবকাঠামো নির্মাণসহ বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে।
বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বৈঠকে পুশইন বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিএসএফ জানিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা ও সহিংসতা প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান, পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যকলাপের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের সহযোগিতা কামনা করেন।
বিজিবি মহাপরিচালক আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে নিরাপত্তা কাঠামো নির্মাণ অব্যাহত থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তবে বিজিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব ইস্যু তুলে ধরা হলেও যৌথ বিবৃতিতে এসবের কিছুই নেই, যা বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
যৌথ বিবৃতি সম্পর্কে ঢাকা ও দিল্লির সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা কর্মকর্তারা আমার দেশকে জানিয়েছেন, নিয়ম অনুযায়ী কোনো যৌথ বিবৃতি প্রকাশের আগে দুই পক্ষকেই বিবৃতির বিষয়বস্তুর ব্যাপারে একমত হতে হয়। এমনকি দাঁড়ি, কমা পর্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পরই সম্মতি দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী যৌথ বিবৃতি একই সময়ে উভয় পক্ষ থেকে অবিকৃত অবস্থায় প্রকাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু এবারের বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের পর তেমনটি ঘটেনি। বিএসএফের পক্ষ থেকে যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে একই বিবৃতি বিজিবির পক্ষ থেকেও প্রকাশ করার কথা। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। বিজিবি যৌথ বিবৃতির ব্যাপারে কোনো ধরনের মন্তব্য না করে আলাদাভাবে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। যৌথ বিবৃতি মানেই উভয়পক্ষ তাতে সম্মত হয়েছে। বিজিবি কীভাবে এই ধরনের একটি যৌথ বিবৃতিতে সম্মত হলো তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
ওই কর্মকর্তারা আরো বলেন, ধারণা করছিÑদিল্লি বৈঠকে বিজিবি বিএসএফের কাছে এক ধরনের আত্মসমর্পণের পর দেশের অভ্যন্তরীণ সমালোচনা এড়াতে আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এছাড়া এবারের বৈঠক ঘিরে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। রেওয়াজ রয়েছেÑবৈঠক শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো আলোচনার বিষয়বস্তু অর্থাৎ, কান্ট্রি পজিশন একে অন্যের সঙ্গে বিনিময় করে থাকে। বিএসএফ তাদের পজিশন পেপার বৈঠক শুরুর মাত্র ঘণ্টাখানেক আগে বিজিবির সঙ্গে শেয়ার করে। অন্যদিকে বিজিবি প্রতিনিধিদল দিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগেই বাংলাদেশের পজিশন পেপার বিএসএফের হাতে চলে যায়। এটা নিশ্চিতভাবেই একটা অস্বাভাবিক ঘটনা।
এদিকে দিল্লির একটি নিরাপত্তা ও একাধিক গণমাধ্যম সূত্র জানিয়েছে, এবারের বৈঠকের ফাঁকে বিজিবি প্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের বিষয়টি রীতিমতো গোপন রাখা হয়। বিএসএফের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতি অথবা বিজিবির প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিÑদুটোর কোথাও এই বৈঠক সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি চিঠি হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ওই সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বিজিবি-বিএসএফের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন এমন একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবারের বৈঠক নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে আমার দেশকে বলেন, এবারের বৈঠকে বিজিবির নীতি-নির্ধারকদের ভূমিকা রীতিমতো রহস্যজনক। অনেকেই অভিযোগ করেনÑবর্তমান বিজিবি প্রধান দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছেন। ভারতের প্রতি তার এক ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। কারণ তিনি গুরুত্বপূর্ণ স্টাফ কলেজ এবং এনডিসি কোর্স ভারত থেকে সম্পন্ন করেছেন। একদিকে তিনি সীমান্তে বিজিবিকে কঠোর অবস্থানে রেখেছেন, অন্যদিকে বিএসএফের সঙ্গে বৈঠকে করেছেন আপোস।
বিশিষ্ট কূটনীতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অধ্যাপক এম শহীদুজ্জামান এ ব্যাপারে আমার দেশকে বলেন, যৌথ বিবৃতিতে পুশইন না থাকা অথবা সীমান্ত হত্যার পরিবর্তে ‘সীমান্তে মৃত্যু’র কথা উল্লেখ করা একটি ভয়াবহ ব্যাপার। বিজিবি প্রধান যদি ওই যৌথ বিবৃতিতে সম্মত হয়ে থাকেন তাহলে তা দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য এক অশনিসংকেত। তিনি বলেন, বিজিবি বিএসএফ বৈঠকে ঠিক কী ঘটেছে, বিজিবি মহাপরিচালকের উচিত সংবাদ সম্মেলন করে তা দেশবাসীকে জানানো। তার অবস্থান সরকারের অবস্থান কি না তাও স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
ভারতের বাংলাদেশনীতির কড়া সমালোচনা করে ড. শহীদুজ্জামান বলেন, ভারত সবসময় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তৎপর। সীমান্তে তারা যা করছে, পৃথিবীর কোথাও তার নজির নেই। নতুন একজন হাইকমিশনার ঢাকায় এসেই যে ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন তা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। দুই দেশের জনগণকে একত্র করার নামে তিনি মূলত আরএসএসের অখণ্ড ভারতের স্বপ্নের কথাই বলেছেন। এদিকে বাংলাদেশের কিছু দালালশ্রেণি ভারতের পক্ষে জোরেশোরে মাঠে নেমেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গেই নিতে হবে।
এদিকে বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী আমার দেশকে বলেন, আমি এই মুহূর্তে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে খুবই ব্যস্ত আছি। বৈঠক নিয়ে যেসব প্রশ্ন তোলা হয়েছে তা তথ্যগতভাবে সঠিক নয় বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, এ ব্যাপারে আমার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাবেন। পরে বিজিবির মিডিয়া উইং থেকে এক লিখিত জবাবে দাবি করা হয়Ñপ্রতিবছরই বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন শেষে একটি জয়েন্ট রেকর্ড অব ডিসকাশনস (জেআরডি) সাইন করা হয়। জেআরডিতে কিলিং শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। বিজিবি কখনোই ‘কিলিং’ শব্দটি থেকে সরে আসেনি। তবে যৌথ বিবৃতিতে কেন সীমান্ত হত্যার পরিবর্তে ‘সীমান্তে মৃত্যু’ কথাটি লেখা হয়েছে তার কোনো জবাব দেয়নি বিজিবির মিডিয়া উইং।
বিজিবির আলাদা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে মিডিয়া উইংয়ের দাবিÑপ্রতিবারই সম্মেলন শেষে যৌথ প্রেস বিবৃতি/ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সম্মেলন সম্পর্কিত তথ্য জানানো হয়। আয়োজক দেশ বা সংস্থা সেটি এবার প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে। বিজিবিও সম্মেলন শেষ করে ফিরে এসে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সম্মেলনের বিস্তারিত জানিয়েছে। তবে যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশের ইস্যুগুলো না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করেনি মিডিয়া উইং। উইংয়ের লিখিত জবাবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি স্বীকার করে দাবি করা হয়Ñবিজিবি মহাপরিচালক ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মৌখিকভাবে সীমান্ত হত্যা ও পুশইন সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়েছেন। কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি। লিখিত জবাবে আরো দাবি করা হয়, বিএসএফের কাছে আত্মসমর্পণ করার বিষয়টি সম্পূর্ণ অবাস্তব। বিজিবির প্রতিনিধিদল এবারও দৃঢ়তার সঙ্গে সব বিষয় উত্থাপন করেছে।
তবে প্রশ্ন উঠছে, বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়ে যদি অমিত শাহের কাছে ‘উদ্বেগ’ জানিয়ে থাকেন তাহলে তিনি তা গোপন রাখলেন কেন? বিষয়টি যদি সত্য হয় এবং এটি যদি প্রকাশ করা হতো তাহলে বাংলাদেশের জন্য নিশ্চিতভাবে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

