রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধিতে ধীরে চলো নীতি

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধিতে ধীরে চলো নীতি
ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি আলোচনায় এলেও আপাতত এ উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে সরকার।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ মুহূর্তে জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রের শীর্ষ পদধারীদের সম্মানী বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। বরং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে ধীরে চলো নীতিতে এগোতে চায় সরকার।

বিজ্ঞাপন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অতীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সম্মানী পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবারও নবম পে-স্কেল ঘোষণার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে দেশের আর্থিক বাস্তবতা এবং সাধারণ মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় নিয়ে এ মুহূর্তে বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের আগ্রহ নেই।

জনগণের অর্থনৈতিক চাপের সময় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্মানী বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে—এমন বিবেচনাও রয়েছে সরকারের মধ্যে।

এদিকে সাংবিধানিক পদধারীদের সম্মানী-ভাতার ব্যবধানও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট সংশোধনের মাধ্যমে তাদের বেতন বাড়ানো হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে বলেন, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের কথা বিবেচনা করে তাতে সায় দেননি প্রধানমন্ত্রী।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, সচিবদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মূল বেতনের ব্যবধানের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেন, আগে সরকারি কর্মচারীদের বেতন নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বেতন কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নেও সময় লাগবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্নভাবে বিচারকরা আমাদের কাছে বলার চেষ্টা করছেন যে, রাষ্ট্রপতির বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ কবে করা হবে। কারণ হিসেবে এ কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রপতির বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণ হলে সাংবিধানিক পদধারীদের সম্মানী-ভাতাও বৃদ্ধি পাবে।

সর্বোচ্চ বেতন সচিবের

নবম জাতীয় পে-স্কেলের নতুন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ফলে একজন সচিবের মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০১৬ সালের দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন হবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। ফলে নতুন পে-স্কেলে একজন সচিবের মূল বেতন রাষ্ট্রপতির বেতনের চেয়ে ৩৬ হাজার টাকা বেশি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন মাসে বেতন পান ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে একজন সচিবের মূল বেতন প্রধানমন্ত্রীর বেতনের চেয়ে ৪১ হাজার টাকা বেশি। একইভাবে একজন মন্ত্রী মাসে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা মূল বেতন পান। নতুন পে-স্কেলে সচিবের মূল বেতন একজন মন্ত্রীর চেয়ে ৫১ হাজার এবং প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে ৬৪ হাজার টাকা বেশি।

তবে শুধু মূল বেতনের তুলনা দিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীদের মোট আর্থিক সুবিধার হিসাব করা যায় না। এসব পদে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে আবাসন, পরিবহন, চিকিৎসা, স্টাফসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত রয়েছে।

এখনই বাড়ছে না এমপি-মন্ত্রীদের বেতন

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো সংসদ সদস্য বা মন্ত্রীদের বেতন প্রতি বছর স্বয়ংক্রিয় ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বাড়ে না। এমনকি শুধু সরকারি আদেশ জারি করেও তাদের বেতন বাড়ানোর সুযোগ নেই। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আইন বা আদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হয়।

সংসদ সদস্যদের বেতন ও ভাতা নির্ধারিত হয় ‘সংসদ-সদস্য (পারিতোষিক ও ভাতাদি) আদেশ, ১৯৭৩’-এর আওতায়। আর প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সম্মানী ও বিশেষাধিকার নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী।

বেতন-ভাতা পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ থেকে প্রস্তাব তৈরি করা হয়। এরপর তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়। অনুমোদন পাওয়া গেলে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। সংসদে বিল পাসের পর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পর সরকারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সংশোধিত বেতন কাঠামো কার্যকর হয়।

২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর পরের বছর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মানী-ভাতাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

সে সময় রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ৬১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর বেতন ৫৮ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা করা হয়।

একই সময় মন্ত্রীদের বেতন ৫৩ হাজার ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রীদের ৫৭ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রীদের ৪৫ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা করা হয়। সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ২৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন