সরকারি প্রণোদনা

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬১ হাজার কৃষকের জন্য ২.২৪ কোটি টাকার বীজ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬১ হাজার কৃষকের জন্য ২.২৪ কোটি টাকার বীজ
ছবি: সংগৃহীত

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক কৃষকদের পুনরায় চাষাবাদে উৎসাহিত করতে বীজ প্রণোদনা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তালিকাভুক্ত প্রতিটি কৃষক এক বিঘা জমির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি বীজ পাবেন। এ খাতে মোট বিতরণ করা হবে তিন দশমিক ৮৭ টন বীজ। এ কর্মসূচির জন্য দুই কোটি ২৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ বিষয়ে ডিএই থেকে মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অনেকেই বলছেন, এই সহায়তা তাদের প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য। কারণ এত কম সহায়তা দিয়ে কৃষকদের পক্ষে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। ফলে নতুন করে আবাদ শুরু করতে অনেককে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার অনেক কৃষক ঋণ পাওয়ার আশায় বিভিন্ন উপায় খুঁজছেন।

বিজ্ঞাপন

ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি জেলা— রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার। এসব জেলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে পৃথক কৃষি পুনর্বাসন কমিটি গঠন করা হয়।

মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে অতিপ্রান্তিক কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেসব কৃষকের নিজস্ব সক্ষমতায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে, তাদের প্রাথমিক তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে অতিপ্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে কৃষি বীজ উপকরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরবর্তী প্রণোদনা কর্মসূচিতে এই দফায় বঞ্চিতদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগে মাঠে থাকা আউশ ধান, রোপা আমন বীজতলা, বোনা আমন, গ্রীষ্মকালীন সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় সাত জেলায় ৬৬ হাজার ২৩১ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৩ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা এবং দুই হাজার ১৪০ হেক্টর বীজতলা সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে গেছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৬ থেকে ১৩ জুলাইয়ের কর্মপরিকল্পনার তথ্যে দেখা গেছে, দেশের ৪৩টি জেলার ৮৭ হাজার ৯৩৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২ হাজার ৭৬৭ হেক্টর আউশ ধান, ১০ হাজার ৫০৪ হেক্টর আমনের বীজতলা, ১৭ হাজার ৮৩৪ হেক্টর শাকসবজি এবং ছয় হাজার ৮৩৪ হেক্টর অন্যান্য ফসল। মোট ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা চার লাখ ৫৬ হাজার ৫২ জন।

তবে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি জেলাকে অগ্রাধিকার বিবেচনা করে সরকার প্রণোদনা দিচ্ছে। জমি যতটুকুই থাকুক না কেন, কৃষকরা কেবল এক বিঘার জন্য পাঁচ কেজি করে বীজ পাচ্ছেন। আর এ কারণেই অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে চড়া সুদে এনজিও থেকে ঋণ নেওয়ার জন্য ছুটাছুটি করছেন।

ডিএইর সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল আমার দেশকে বলেন, মাঠপর্যায়ের কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় ৬১ হাজার ৭৪৭ জন কৃষক বীজ প্রণোদনা পাবেন। সহায়তার পরিমাণ সীমিত মনে হলেও এটি কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা যে, দুর্যোগের সময়ে সরকার তাদের পাশে রয়েছে।

ডিএইর প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন, আমন আবাদ অব্যাহত রাখা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

মৌলভীবাজারের ভুনবীর ইউনিয়নের কৃষক ফারুক মিয়া বলেন, বন্যায় আমার সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। সরকার যে পরিমাণ সহায়তা দিচ্ছে, তা দিয়ে নতুন করে চাষ শুরু করা সম্ভব নয়। এখন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।

শ্রীমঙ্গলের কৃষক আবু তাহেরের মেয়ে প্রোমা আমার দেশকে বলেন, খেতের সবজি থেকে শুরু করে সবকিছু বন্যায় শেষ হয়ে গেছে। এখন কেউ যদি আমাদের সাহায্য না করে, তবে ঋণ করা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু গ্রামের এনজিওগুলোর ঋণের সুদের হার অনেক বেশি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন