ঢাকা শহরের উত্তর প্রবেশদ্বার সাভারের আমিন বাজার। আমিন বাজার বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন বেগুন বাড়ি মহল্লার সন্তান আহম্মেদ বাবু ( ৩৮)। ছিলেন কসমেটিক ব্যবসায়ী ও ফুটবলপ্রেমী। মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রীটের একটি আবাসিক হোটেলে ৯ জন নিহতের মধ্যে যে ৫ জন বাংলাদেশি রয়েছেন তাদের একজন সাভারের আহম্মেদ বাবু।
দুই সন্তানের জনক আহমেদ বাবু গত রোববার বেড়াতে গিয়েছিলেন কলকাতায়। তার মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যদের মাঝে যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। শুক্রবার রাতেই তার দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। যাওয়ার সময় বৃদ্ধা মা সাবেরা বেগম ও স্ত্রী বুবলী আকতারকে বলে গিয়েছিল মাত্র ৫ দিন কলকাতায় বেড়াবেন। যাওয়ার সময় মাকে জড়িয়ে ধরে দোয়া চেয়েছেন যেন সুন্দরভাবে ফিরে আসতে পারেন।
মা তার সন্তানকে পরিবারের সদস্যদের সামনে দোয়া করে দিয়েছিলেন যেন সুন্দরভাবে মায়ের কোলে ফিরে আসে সন্তান। কিন্তু এ যে সন্তানের শেষ যাত্রা ছিল তা কেহই জানতেন না। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সর্বশেষ আহম্মেদ বাবুর সাথে কথা হয় পরিবারের সদস্যদের।
এ সময় তিনি তার বড় ভাই মোহাম্মদ আলী,মনির হোসেন এবং স্ত্রী সন্তান ও মায়ের সাথে কথা বলেন। সবাই কেমন আছেন, বাচ্চাদের জন্য, মায়ের জন্য কী কী কেনা কাটা করেছেন সে কথাই জানিয়েছিলেন। রাত ২টার দিকে এসি বিস্ফোরণে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় আহম্মেদ বাবুসহ ৯জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন সংলগ্ন হওয়ায় ঘন্টা খানিক সময়ের ব্যবধানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে প্রাণ যায় ৫ বাংলাদেশীসহ ৯ জনের।
আহমেদ বাবু আমিন বাজার মফিদ-ই আম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পর্যন্ত লেখা পড়া করে ব্যবসায় মনোযোগ দেন। আমিন বাজার বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন শাহীন সুপার মার্কেটে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম কিউট কসমেটিকস।
এমএই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

