আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের পদোন্নতির হিড়িক

আজাদুল আদনান

আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের পদোন্নতির হিড়িক

স্বাস্থ্য ক্যাডারের সুপারনিউমারারিসহ (অনুমোদিত পদের অতিরিক্ত) প্রায় ১০ হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতির প্রক্রিয়া চলমান। ইতোমধ্যে জুনিয়র কনসালট্যান্ট, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক এবং অধ্যাপকসহ সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি চিকিৎসকের পদোন্নতি হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের বেশিরভাগ দীর্ঘদিন বঞ্চিত থাকা বিএনপি ও জামায়াতপন্থিসহ সাধারণ চিকিৎসক। তবে আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ রয়েছেন এ তালিকায়, যারা দীর্ঘদিন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোয় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। জুলাই বিপ্লবকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে শহীদ মিনারে হওয়া কথিত ‘শান্তি সমাবেশে’ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে নিরীহ জনগণের ওপর চলা পাশবিক নির্যাতনকে বৈধতা দিয়েছিলেন—এমন শতাধিক চিকিৎসককেও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এদের বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আজীবন সদস্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব পদোন্নতির পেছনে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট কাজ করছে। একই সঙ্গে নিজেদের দলে ভেড়াতে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির একটি পক্ষও তাদের জন্য সুপারিশ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

শুধু তাই নয়, পদোন্নতি হচ্ছে স্বৈরাচার আমলের একটি নির্বাহী আদেশে। ১১ থেকে ২০তম বিসিএসকে সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা (পদোন্নতির পরীক্ষা) থেকে বিধিবহির্ভূত প্রমার্জনা দিয়ে যে অবৈধ পদোন্নতি চলমান রেখেছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রশাসন, জুলাই বিপ্লবের পর একই প্রক্রিয়ায় পদোন্নতি চলমান রয়েছে। ফলে বঞ্চিত সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা পাস ক্যাডারদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সাইদুর রহমান আমার দেশকে বলেন, আওয়ামীপন্থিদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও অভিযোগ এলেই কেবল খতিয়ে দেখা হয়। কারণ, আওয়ামীপন্থি সবার তালিকা আমাদের কাছে নেই, কোনো সংগঠনও দেয়নি। ফলে যখনই যার ব্যাপারে অভিযোগ আসছে, ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকরা পেয়েছেন পদোন্নতি

স্বাচিপের সদস্য না হলেও জুলাই বিপ্লবের বিপরীত অবস্থান ছিল সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের গাইনি ও অবস জুনিয়র কনসালট্যান্ট রুশদানা রহমানের। ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত ‘শান্তি সমাবেশে’ সামনের সারিতেই অবস্থান ছিল এ চিকিৎসকের। তারপরও গত বছরের ২২ অক্টোবর সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান তিনি।

একই ভাবে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন নীলাক্ষি পাল। পদোন্নতির আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। নিলাক্ষিও শান্তি সমাবেশের সামনের সারিতে ছিলেন।

সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন স্বাচিপের স্থায়ী সদস্য জাতীয় গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো ইন্টারোলজি বিভাগের চিকিৎসক রোকনুজ্জামান ভূঞা।

স্বাচিপের আজীবন সদস্য ডা. সালাউদ্দিন মোহাম্মদ আলী হায়দার সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে কর্মরত। স্বাচিপের আরেক আজীবন সদস্য ডা. মোহাম্মদ মনির হোসেন সহকারী অধ্যাপক (শিশু) থেকে সহযোগী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে কর্মরত।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিহ্নিত ছাত্রলীগ ক্যাডার ডা. তৌফিকুল হাছান ভূঞা জুনিয়র কনসালট্যান্ট থেকে অর্থপেডিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। স্বাচিপের নেত্রী সহযোগী অধ্যাপক ডা. আলপনা অধিকারীকে জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অংশ নেওয়ায় ওএসডি করে রাখা হয়েছিল। গত ২৪ ডিসেম্বর অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে গাইনি অ্যান্ড অবস বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। একই ভাবে পদোন্নতি পেয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা ডা. আখতারী হোসাইন চৌধুরী। তিনিও ২৪ ডিসেম্বর অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পান।

শুধু এ আট চিকিৎসক নন, পদোন্নতি পাওয়া শতাধিক চিকিৎসক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং স্বাচিপের আজীবন সদস্য বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর এখন পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ হাজারের মতো চিকিৎসকের পদোন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে জুনিয়ার কনসালট্যান্ট হিসেবে ৯৪২ জন, সহকারী অধ্যাপক তিন হাজার ৮০০ জন, সহযোগী অধ্যাপক এক হাজার ১৯৩ জন এবং অধ্যাপক হয়েছেন ৫৪০ জন। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং স্বাচিপের আজীবন সদস্য—এমন অর্ধশতাধিক চিকিৎসকের একটি তালিকা এ প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় দেড়শ আওয়ামীপন্থি চিকিৎসক রয়েছেন। কারো কারো পদোন্নতি দেওয়ার পর বাতিলও করা হয়। স্বাচিপের সদস্যদের একটি তালিকা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সে তালিকায় বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), জামায়াতপন্থি ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) এবং এনসিপির সুপারিশও রয়েছে। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একটি সিন্ডিকেট আওয়ামীপন্থিদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়ে পদোন্নতির ব্যবস্থা করেছে। এসব পদোন্নতির বেশিরভাগই হয়েছে গত বছরের শেষ পর্যায়ে।

দেড় হাজার চিকিৎসকের ব্যাপারে তদন্ত চলছে

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশে স্বাচিপের ১৪ হাজারের মতো সদস্য রয়েছে। অনেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেতে তৎকালীন আওয়ামীপন্থি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে চাকরি বাঁচাতে ফরম পূরণ করেছেন। এজন্য শুরুতে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, স্বাচিপের সদস্য হলেও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, শান্তি সমাবেশ ও জুলাই বিপ্লবের বিপরীতে ছিলেন না—এমন চিকিৎসকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। কিন্তু সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে গঠিত গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে স্বাচিপ সদস্যদের পদোন্নতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পদোন্নতির আবেদন করেছেন, স্বাচিপের এমন সদস্য দেড় হাজারের বেশি। এর মধ্যে সহকারী অধ্যাপক পদে ৪৬০ জন ও সহযোগী অধ্যাপক পদে ৫৭১ জন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, পদোন্নতি আটকে যাওয়ার কারণ খুঁজতে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। যাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার প্রমাণ মিলবে, শান্তি সমাবেশে গিয়েছিলেন, প্রকাশ্যে কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরোধিতা করে পোস্ট দিয়েছেন অথবা জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন কিংবা আওয়ামী আমলে বিধিবহির্ভূতভাবে সুযোগ-সুবিধা, পদ-পদবি নিয়েছেন, তাদের বাদ রেখে বাকিদের পদোন্নতি দেওয়া হতে পারে।

অবৈধ পদোন্নতি দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি

আগের রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে বড় একটি অংশকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পতিত আওয়ামী লীগের আমলে ১১ থেকে ২০তম বিসিএসকে সিনিয়র স্কেল পরীক্ষা (পদোন্নতির পরীক্ষা) থেকে বিধিবহির্ভূত প্রমার্জনা দিয়ে যে অবৈধ পদোন্নতি চলছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও সেটি জারি রয়েছে। নতুন করে ২১ থেকে ২৫তম বিসিএসের নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রমার্জনা দিতে এবার চাকরিবিধিতে পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় পাস না থাকলে ক্যাডারে সর্বোচ্চ পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত পদোন্নতি দেওয়ার বিধান রয়েছে। তারপরও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পার-১ থেকে স্বাস্থ্য শিক্ষায় পঞ্চম গ্রেডের পদ না থাকায় সহযোগী অধ্যাপকের চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়া যায় কি না, তা জানতে চেয়ে তিনবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৫ শাখায় চিঠি পাঠানো হয়। অথচ সিনিয়র স্কেল পরীক্ষার বিধিতে (১৯৮৬, সংশোধিত ২০১৭) স্পষ্ট উল্লেখ আছে, কেউ সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় পাস না করলে সর্বোচ্চ পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত পদোন্নতি পাবে। অর্থাৎ বিধি অনুযায়ী কারো চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির সুযোগ নেই। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-৫ শাখা প্রতিবারই ২০১৭ সালের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার উপদেশ দেয়।

পরে ২১ থেকে ২৫তম বিসিএসের সিনিয়র স্কেল পরীক্ষায় পাস না করা একটি পক্ষ বিধি সংশোধন করে পদোন্নতি নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে, যাদের বেশিরভাগই আওয়ামীপন্থি চিকিৎসক ও স্বাচিপের সক্রিয় সদস্য। কিন্তু অবৈধ প্রাপ্তির আশায় বিএনপিন্থি ড্যাবের কয়েকজনকে রেখে বিধি সংশোধনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্বাস্থ্য ক্যাডাররা বলছেন, ২১ থেকে ২৫তম বিসিএসের এ সংশোধনীর চেষ্টায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ২১ থেকে পরবর্তী বিসিএস ব্যাচের প্রায় ২৫ হাজার ক্যাডার কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র সহকারী সচিব আমার দেশকে বলেন, ১১ থেকে ২০তম বিসিএসে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী আদেশে প্রমার্জনা করা হলেও সেটি আসলে পদোন্নতির জন্য ছিল না। তারপরও সেটিকে পদোন্নতিতে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি এখনো সেটি জারি রয়েছে, চাকরিবিধি অনুযায়ী যা সঠিক নয়। বিষয়টি জানার পরও জনপ্রশাসনের তেমন কিছু করার নেই। কারণ, পদোন্নতির প্রক্রিয়ার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন উত্থাপন না করলে জনপ্রশাসনের কিছু করার নেই।

তিনি আরো বলেন, নতুন করে ২১ থেকে ২৫তম বিসিএসের নিয়োগপ্রাপ্তদেরও প্রমার্জনা দিয়ে চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য এবার চিঠি এসেছে মন্ত্রণালয়ে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠি একাধিকবার এলেও আমরা স্পষ্ট করে বলেছি, বিধির বাইরে কোনোকিছু করবে না মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য সচিব সাইদুর রহমান বলেন, নতুন করে বিধি সংশোধনের বিষয়টি সময়সাপেক্ষ। আসলে চিকিৎসকরা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে। তাদের বড় একটি সময় এতে চলে যায়। ফলে অন্য ক্যাডারদের সঙ্গে তাদের মেলানো ঠিক হবে না। বিধান অনুযায়ী, কারো সিনিয়র স্কেল পাস না থাকলে তিনি সর্বোচ্চ পঞ্চম গ্রেডে পদোন্নতি পাবেন। কিন্তু চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে পঞ্চম গ্রেড নেই। আছে চতুর্থ গ্রেড। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে চতুর্থ গ্রেড দিতে হচ্ছে।

বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি নেতাদের সুপারিশেও হয়েছে পদোন্নতি

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের পদোন্নতি শুরু হলে এতে প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েন বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির নেতারা। এজন্য বেছে নেওয়া হয় মন্ত্রণালয়ের ২১৪ নম্বর কক্ষ। এর মধ্যে বিএনপির পক্ষ থেকে কাজ করছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, জামায়াতের পক্ষ থেকে মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এবং এনসিপির পক্ষ থেকে ঢামেকের নিউরোসার্জারি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আব্দুল আহাদ।

এর মধ্যে অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানের বিরুদ্ধে স্বাচিপের চিকিৎসকদের পদোন্নতি দিতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলার তথ্য মিলেছে। গত বছরের ৬ ডিসেম্বর গ্রুপটি খোলা হয়, যেখানে আওয়ামীপন্থি ১৮৪ জন চিকিৎসক যুক্ত। তাদের সবাই গাইনি চিকিৎসক। এর মধ্যে শুধু নারীদের পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে সদস্যদের জানান তিনি।

জাহিদ রায়হান বলেন, বিপুলসংখ্যক আওয়ামীপন্থি চিকিৎসকের পদোন্নতি হয়ে থাকলে সেটি শঙ্কার কথা। যেখানে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিজেই বলেন আওয়ামী লীগ মানেই ঢালাওভাবে খারাপ নয়, সেখানে এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। তবে এটাও সত্য, অনেকে স্বাচিপের সদস্য হলেও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের পদোন্নতি আটকে যাওয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয় আমলে নিয়েছে। নতুন করে সেগুলো পর্যালোচনা চলছে।

স্বাচিপের চিকিৎসকদের পদোন্নতির সুপারিশ করতে আলাদা গ্রুপ খোলার বিষয়ে তিনি দাবি করেন, গ্রুপটি শুধু স্বাচিপ নয়, বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে করা। সুপারিশ করার মতো কিছু হয়নি।

জামায়াতপন্থি চিকিৎসক অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকাদের পদোন্নতি পাওয়া দুর্ভাগ্যজনক। ড্যাব, এনডিএফ ও এনসিপির কোনো সুপারিশে এ ধরনের কোনো পদোন্নতি হয়নি। মূলত কারা পদোন্নতি পাবে সেটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল মাত্র।

আওয়ামীপন্থিদের পদোন্নতির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে ডা. আহাদ বলেন, সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল, জুলাই বিপ্লবের বিরুদ্ধে অংশ নিয়েছিল—এমন চিকিৎসকদের পদোন্নতি হওয়ার কথা নয়। তারপরও হয়ে থাকলে সেটি মন্ত্রণালয়ের দায়। স্বাচিপ সদস্যদের তালিকা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। আমলাতন্ত্রই এর পেছনে কাজ করেছে বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন