ড. মুহাম্মাদ সাইদুল ইসলাম

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা, যা শুধু একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটায়নি; বরং সমাজ, রাষ্ট্র এবং রাজনৈতিক ইসলামের চর্চার ক্ষেত্রে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

গত চৌদ্দ মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে দুটি যুগান্তকারী বিপ্লব-চব্বিশের জুলাই বিপ্লব এবং পঁচিশের ডাকসু ও জাগসু বিপ্লব। এই দুটি আন্দোলন শুধু স্বৈরশাসনের পতন বা ছাত্র-জনতার বিজয়ের গল্প নয়; বরং এগুলো বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ, মিথ্যা অর্থনৈতিক বিবরণ এবং দৃশ্যমান অবকাঠামো প্রকল্পের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো ঢেকে রাখার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বিপ্লবকে থামানো যায়নি। হাসিনার যুগ কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিপদ এবং জনগণের অসন্তোষ উপেক্ষা করার পরিণতি সম্পর্কে একটি কঠোর শিক্ষা দেয়। নিচের কারণগুলো কর্তৃত্ববাদী শক্তি এবং নৃশংসত

নতুন সময়ের দাবিতে নতুন রাজনৈতিক ঐক্য বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব রাষ্ট্রকে একটি অস্থির, একদলীয় ও দমনমূলক অবস্থান থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে এনেছে।

বাংলাদেশে অন্যতম ধ্বংসাত্মক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হলো টোটেম সংস্কৃতি। এর অর্থ হলো, কোনো প্রভাবশালী মৃত ব্যক্তি বা বস্তুকে টোটেম বা ‘পূজার আসনে’ বসানো এবং তাকে ঘিরেই সব রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নির্ধারণ করা।

মেজর ডালিমের লেখা বই ‘আমি মেজর ডালিম বলছি’ (যা শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ ছিল) এবং এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকার বাংলাদেশের ইতিহাসকে নতুন করে আবিষ্কার করার ক্ষেত্র ও সুযোগ তৈরি করবে নিঃসন্দেহে।

শেখ হাসিনার মতো এমন নৃশংস জালেম, চরম স্বৈরাচার এবং ক্লেপটোক্রাটিক ফ্যাসিস্ট শাসক আর কখনোই আসেনি। আর পৃথিবীর পাঁচ হাজার বছরের লিখিত ইতিহাসে এমন বীভৎস ‘মহিলা স্বৈরাচার’ আর দ্বিতীয়টা ছিল বলে আমার জানা নেই।