ড. হাসান মাহমুদ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা’ কেবল একটি ঐতিহাসিক স্মৃতি নয়; এটি একটি নৈতিক ভাষা, একটি শাসন-যুক্তি এবং এক ধরনের সাংস্কৃতিক কর্তৃত্ব। এই চেতনার পক্ষে অবস্থান নেওয়া রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা নিজেদেরকে

‘আগডুম বাগডুম ঘোড়াডুম’ শব্দগুলা আমরা অনেক সময়ই ব্যবহার করি নিরর্থক বা অনর্থক অর্থে। কোনো আলাপচারিতায় কারো কোনো বক্তব্যকে বাতিল করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় বলি—‘কী সব আগডুম বাগডুম প্যাঁচাল পারছে!’ এই ‘আগডুম বাগডুম’ শব্দগুলা আমাদের মাঝে ছরায়া আছে রবীন্দ্রনাথের জনপ্রিয় বই ‘ছেলে ভুলানো ছড়া’ থেকে। ছাড়াটা এই

বাংলাদেশে বামপন্থা ঐতিহাসিকভাবে গণতন্ত্র, শ্রমিক অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনে সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমতা বাম ধারার রাজনীতিকে নৈতিক গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, এই আন্দোলনের ভেতরেও অনেক সময় কেন্দ্রীয় নিয়ন

বাংলাদেশে প্রায়ই দেখা যায়, প্রগতিশীল রাজনীতি হিসেবে নিজেদের দাবি করা বামপন্থি রাজনীতিবিদ ও দলগুলো জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট নানা ইস্যুতে নানা কর্মসূচি নিয়ে এগিয়ে আসে, সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে সর্বজনীন মানবাধিকার এবং এ ধরনের ইস্যুতে সরব হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাম ও ডানপন্থি রাজনীতি এবং দল নিয়ে অনেক সময়ই আলাপ-আলোচনা চলে। রাজনীতির আলোচনা বা বিতর্কে ‘বাম’ ও ‘ডান’—এই দুটি শব্দ আজ সারা বিশ্বেই প্রচলিত, তবু সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর। কখনো এগুলো মতাদর্শের প্রতীক, কখনো আবার শুধুই রাজনৈতিক দলের পরিচিতি। ইতিহাসে এই বিভাজন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক

গত ১১ আগস্ট রাতে এক চমকপ্রদ ঘটনার জন্ম হয়। সাহারা চৌধুরী নামের সিলেট মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ‘এন্টার্কটিকা চৌধুরী’ নামে তার নিজের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ সারোয়ার

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন এই শব্দ দুটির মধ্যে বাঙালি মুসলমানের ইসলামভিত্তিক পরিচয়ের প্রতি একটি স্পষ্ট ইশারা ছিল। এই শব্দগুলোর মাধ্যমে জুলাই ২৪-এর আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও বিজয়ে বাঙালি মুসলমান নিজের অংশগ্রহণ ও অবদানের প্রমাণ রেখে দিয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে যা ঘটেছিল, সেটি নিছক একটি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান নয়। এটি ছিল রাষ্ট্রের ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের ঐতিহাসিক প্রতিরোধ, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতায় আরেকটি ‘মুক্তিযুদ্ধ’। এই বিপ্লব রাষ্ট্র, নাগরিক ও ভবিষ্যতের গণতন্ত্রÑসবকিছু নিয়ে নতুনভাবে

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদ একটি কেন্দ্রীয় ইস্যু, যা শুধু পরিচয়ের প্রশ্নই নয়, রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক ভিত্তি নির্ধারণেও মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের শুরু হয় এই চরণ দিয়ে– আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। এই চরণ আপামর বাংলাদেশির মাঝে আবেগ তৈরি করে নিজেকে নিয়ে, নিজের দেশকে নিয়ে। সেই আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেশপ্রেমজাত নানান কথায় ও কাজে স্বেচ্ছায় অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করে।