
অলিউল্লাহ নোমান

প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে কাজ করছে ‘প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন। এই সংগঠনের যুক্তরাজ্য শাখার আহ্বায়ক ইউকে ইমিগ্রেশন ট্রাইব্যুনালের একজন বিচারক। তার নেতৃত্বে গঠিত সংগঠনের একজন সদস্য হিসেবে আমার মতো নগণ্য ব্যক্তিকেও রাখা হয়েছে।

ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে দেশে বারবার তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা। প্রতিযোগী রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের প্রতি আস্থাহীন। ভোটের প্রশ্নে কেউ কারো ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে নারাজ। এই আস্থাহীনতাই রাজনীতিকে উত্তপ্ত করছে বারবার।

পদত্যাগ করেছেন ব্রিটেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল সম্পত্তি কেনার সময় সঠিক তথ্য গোপন করেছেন। ৪০ হাজার পাউন্ডের তথ্য গোপন করা স্টাম্প ডিউটি থেকে বঞ্চিত হয় দেশ।

দেরিতে হলেও সুখরঞ্জন বালী অভিযোগ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তাকে অপহরণ ও গুমের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী, ট্রাইব্যুনালের বিচারকসহ সংশ্লিষ্টদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। শেখ হাসিনা আমলে হাজারো গুমের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সুখরঞ্জন বালীর ঘটনাটি ছিল ব্যতিক্রম।

শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিচারবহির্ভূত হত্যার পাশাপাশি বিচারিক হত্যাকাণ্ডও ঘটেছে। পরিকল্পিতভাবে অভিযোগ সাজিয়ে, সাক্ষী তৈরি করে, অনুগত আদালতের মাধ্যমে রায় নিয়ে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃত্বকে।

দেরিতে হলেও এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের অনেকগুলো কাজের মধ্যে খায়রুল হকের গ্রেপ্তার প্রশংসিত হতে দেখেছি সোশ্যাল মিডিয়ায়। প্রথমে হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল।

সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের কক্ষ কবজায় নিচ্ছেন প্রভাবশালীরা। বরাদ্দের নির্ধারিত নিয়ম-নীতি থাকলেও সে সবের তোয়াক্কা করছেন না কেউ। দখলদারদের মধ্যে আছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বর্তমান অনির্বাচিত কমিটির সহ-সভাপতি ও অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরতরা

শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার মোসাহেব বিচারকরা বহাল তবিয়তে আছেন। নিম্ন আদালতে যারা কথায় কথায় চাহিবা মাত্র রিমান্ড দিতেন, ফরমায়েশি রায় দিয়ে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের চরিত্র হনন করতেন, তারাও আছেন স্বপদে। হয়তো স্টেশন বদল হয়েছে মাত্র।

ফ্যাসিবাদের প্রোপাগান্ডা সেলের অন্যতম সদস্য সৈয়দ বোরহান কবিরের স্ত্রী অদিতি করিমের ব্যাংক হিসাব জব্দ করাকে অস্বাভাবিক দ্রুততায় অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।

ছোটবেলা থেকেই গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের লড়াইয়ের কথা শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা। ১৯৮২ সালে এরশাদ যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন তখন আমি কিশোর। মাত্র ক্লাস সেভেনে পড়ি। এরশাদ বিদায় নেওয়ার সময় টগবগে তরুণ। তখনো ছাত্র। এরশাদ বিদায় নেওয়ার আগে দুটি জাতীয় নির্বাচন দেখেছি।

আছে গ্রেট ব্রিটেনের সংসদ ভবন। হাজারো দর্শনার্থী প্রতিদিন এখানে আসেন সংসদীয় গণতন্ত্রের এই সিম্বল দেখতে, যদিও রাজা বা রানিকে মনে করা হয় জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে আরো অস্থায়ী বিচারক নিয়োগ হতে যাচ্ছে। সঠিক সংখ্যা জানা না গেলেও বিচারক নিয়োগে তোড়জোড় চলছে পুরোদমে। এসব বিচারক প্রথমবারের মতো সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমন্ট কাউন্সিলের সুপারিশে নিয়োগ পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে গণতন্ত্র ও বিচার বিভাগ ধ্বংসের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার নাটের গুরু এবিএম খায়রুল হক দেশ ছেড়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। তবে সেখানেও লোকচক্ষুর আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন।

সুপিরিয়র কমান্ড হিসেবে শেখ হাসিনাই জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন। তার বিচার হবে সুপিরিয়র কমান্ড হিসেবে। মে মাসে এ বিচার শুরুর প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই ট্রাইব্যুনালে সুপিরিয়র কমান্ডের বিচারের জন্য চার্জশিট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রসিকিউশন।

শেখ হসিনার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় মূল কারিগরের ভূমিকায় ছিলেন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। দলীয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আদেশ-নির্দেশ ও রায় দিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে অব্যাহত সহযোগিতা দিয়ে গেছেন তিনি।

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন এ পর্যন্ত চারশোর মতো অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে এসেছে। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনা করে ১৮-১৯টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে করা হয়েছে দুটি মামলা। একটি হচ্ছে গণহত্যার অভিযোগে।

জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনবিস্ফোরণকে জঙ্গিবাদের উত্থান বলে বাংলাদেশ মিশনগুলো থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল বিভিন্ন দেশে। পরিকল্পিত ভিডিও বানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এই প্রচারণা চালানো হয়।

৫ আগস্ট বিপ্লবের পর অনেকেই বাসাবাড়ি ছেড়ে দিয়ে আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। তাদের ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন, সরকারের ঢিলেঢালা আচরণে এখন আবার বাড়িতে ফিরেছেন অনেকেই।

এক্সপোর্ট সার্ভিসেস কুয়ালালামপুর লিমিটেড (ইএসকেএল) শেখ পরিবার ঘনিষ্ঠদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। কোম্পানিটির ৩০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে পরিচালক হওয়া আমেরিকান নাগরিক মোহাম্মদ তাবিথ আউয়ালকে নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগের সব তথ্য ব্যান্ডউইথ সরবরাহকারী ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের সার্ভারে জমা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এমনকি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সব ডাটা এখন রয়েছে ভারতীয় সার্ভারে।

উচ্চ আদালতে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগে নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত করা নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হলে বিচারক নিয়োগের জন্য পৃথক স্থায়ী কমিশন গঠন করা হবে।

মাওলানা আবুল কালাম আযাদের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সব সাক্ষীই ছিল সাজানো। সাক্ষীদের সেফ হোমে রেখে ভয়ভীতি দেখিয়ে সাক্ষ্য দিতে সম্মতি নেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশনের স্বপ্রণোদিত বক্তব্যেই এখন ঘটনাটি প্রকাশ পাচ্ছে।

ইলিয়াস আলীর পরিণতি সম্পর্কে খবর প্রকাশের পর আমার দেশ-এর অনুসন্ধানে আরও নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, রাষ্ট্রীয় পাঁচ বাহিনীর মধ্যে ডিজিএফআইয়ের সাবেক একাধিক ডিজির নামও অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে।

ফ্যাসিবাদী সরকারের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তার চেম্বারের জুনিয়রদের দাপট ছিল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পর্যন্ত। তাদের পছন্দ না হলে হাইকোর্টও রায় পরিবর্তন করত। এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো তোয়াক্কাই ছিল না।

জেলা প্রশাসন হচ্ছে প্রতিটি জেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানের একটি ইউনিট। জনগণের টাকায় জেলা প্রশাসনের বেতন-ভাতা হয়। তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় রাষ্ট্রের কর্মচারী হিসেবে। রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। মালিকের সেবা করাই কর্মচারীদের মূল দায়িত্ব। কিন্তু বাংলাদেশে জেলা প্রশাসন কি মালিকের সেবা করে?

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে র্যাব সদস্য সার্জেন্ট তাহেরুল ইসলাম ইলিয়াস আলীকে অপহরণের নির্মম ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন।

প্রসিকিউশন টিমে ছিলেন গোলাম আরিফ টিপু, রানা দাশগুপ্ত, জিয়াদ আল মালুম ও অন্যান্য আওয়ামী আইনজীবী। সরকারি লোকজনের বাইরে আহমেদ জিয়াউদ্দিন বেলজিয়াম থেকে ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নাসিমকে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় লিখে দিতেন।

দেলওয়ার হোসেন সাইদিকে ১৯৭১ সালের বিসা বালী হত্যা মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছিল ট্রাইব্যুনাল। বিসা বালীর ছোট ভাই সুখরঞ্জন বালী। তিনি জানান, সরকার পক্ষ থেকে তার ওপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল সাঈদির বিরুদ্ধে সাক্ষ দিতে।

বাংলাদেশ সরকার যদি চায়, আমরা স্থানীয় সরকার সংস্কারের জন্য সহযোগিতা করতে সব সময় প্রস্তুত রয়েছি। আমাদের এই কাউন্সিল স্থানীয় সরকার পরিচালনায় এক্সপার্টিজ রয়েছে। আমি চাই এই এক্সপার্টিজ দিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে।

পদে পদে কোনো বাধাই আমার দেশকে দমাতে পারেনি। আমার দেশ-এর দৃঢ়চিত্তের সংবাদকর্মীরাও আত্মসমর্পণ করেননি ফ্যাসিবাদের কাছে। আবারও বাধা এলে অতিক্রম করবে আমার দেশ, এই প্রতিজ্ঞা প্রত্রিকাটির সম্পাদকসহ সংবাদকর্মীদের।