আবদুল লতিফ মাসুম

পবিবর্তনশীল বিশ্বের রাজনীতি অধ্যয়নের দিকপাল এসপি হান্টিংটন দুটি প্রেক্ষিতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ধরন-ধারণ বা গতি-প্রকৃতি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের পরামর্শ দিয়েছেন। এ দুটি প্রেক্ষিতের প্রথমটি ব্যক্তিগত।

বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের অভ্যুদয় ও বিকাশ একটি অনন্য ঘটনা। ১৯৭০ সালে এতদঞ্চলের জনগণ পশ্চিমাঞ্চলীয় শাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে গণরায় প্রদান করে। পাকিস্তানের নির্বোধ শাসকগোষ্ঠী সেই রায় অস্বীকার করায় রক্তপাত অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ইচ্ছাকে পদদলিত করায় পাকিস্তান নামক রাষ্ট্র

২০২৬ সালের নির্বাচন যখন ঘোষিত হয়, উভয় দলের সাধারণ শত্রু তখন পতনের পর পলায়ন করেছে। আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কার্যকারিতা হারিয়েছে। ফলে উভয় দল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছে। অতীতের বিপদের সময়ে তারা ছিল একে অপরের বন্ধু ও সম্পূরক। ২০ দলীয় জোটের আদলে তারা ছিল আওয়ামী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত

ব্রিটিশ রাজনীতিক বেঞ্জামিন ডিসরাইলির একটি বিখ্যাত উক্তি ‘রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই।’ বাক্যটি বাংলা ভাষায় একরকম প্রবাদের মতো উচ্চারিত। আমাদের রাজনীতিবিদরা হরহামেশা এ রকম কথা বলে থাকেন। পৃথিবীর সর্বত্র এ কথাটি সত্য। তবে বাংলাদেশের ভূগোল-ইতিহাসের পরিপ্রেক্ষিতে কথাটি অধিকতর সত্য।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার সামাজিক চুক্তি নবায়নের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। প্রতিটি নির্বাচন জনগণকে শুধু শাসক বেছে নেওয়ার সুযোগই দেয় না, বরং রাষ্ট্র কোন নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকবে

রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম শুধু ব্যক্তি হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকে নাÑতারা সময়, সংগ্রাম ও রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিচ্ছবিতে রূপ নেয়। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম। আজ সকাল ৬টায় তার মৃত্যুর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতি হারাল এক দীর্ঘ লড়াইয়ের প্রতীক এবং এক আপসহীন নেতৃত্বের নাম। এর মাধ্যমে একটি যুগের অবসান ঘটল। তিনি

২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের গণঅভিপ্রায় ছিল গণতন্ত্র। আর গণতন্ত্র মানেই জনগণের শাসন। নগর-রাষ্ট্র থেকে আধুনিক রাষ্ট্র এতই বিস্তৃত হয়েছে যে, আসলে সব মানুষ একত্র হয়ে শাসন করতে পারে না। তাই গণতন্ত্র মানে সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন। সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন কীভাবে নির্ধারিত হবে?

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের ‘আধা ঔপনিবেশিক’ শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষের বিজয় ছিল ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এতদ্বঞ্চলের জনগণের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চিরকালের। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে ঘটেছে নানা রূপান্তর। বাংলাদেশের জাতিত্ব প্রাচীন কিন্তু জাতীয়তা তথা রাষ্ট্রধারণার ইতিহাস আধুনিক।

‘নিরাপত্তা’ শব্দটির অর্থ হলো সম্ভাব্য ক্ষতি, হুমকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত জবরদস্তি থেকে সুরক্ষা বা প্রতিরোধ ক্ষমতা। নিরাপত্তার ধারণাটি ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র পর্যন্ত বিস্তৃত। গতানুগতিক চিন্তা-ভাবনায় নিরাপত্তা বিষয়টি ছিল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সীমিত।

‘নিরপেক্ষতা’ আর নিরপেক্ষ নেই। এর পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। ডালপালা, শাখা-প্রশাখা গজিয়েছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিরপেক্ষ শব্দটি একটি কূটাভাস। কূটাভাস শব্দটিও পরিচিত নয়। সে জন্য আরো বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

গত সপ্তাহটি অনিশ্চয়তা, অস্থিরতা ও ঘটনা-দুর্ঘটনায় ভরপুর। অনিশ্চয়তা শুরু হয়েছিল জুলাই সনদের স্বাক্ষরতার মধ্য দিয়ে। অবশেষে বিমানবন্দরে ভয়াবহ দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে গোটা সপ্তাহটি নানা ধরনের আলামতে অতিবাহিত হলো।

‘নাগরিক সমাজ’ শব্দটি ইংরেজি ‘Civil Society’-এর বাংলা পারিভাষিক রূপ। এই শব্দটির উৎস প্রাচীন ত্রিসে। প্রথমে অ্যারিস্টটল তার ‘রাজনীতি’ (Politics) গ্রন্থে গ্রিক শব্দ ‘কইনোনিয়া পলিটিকে’ ব্যবহার করেছিলেন, যার অর্থ ছিল ‘রাজনৈতিক সম্প্রদায়’।

এটি আশা ও আনন্দের কথা যে, অবশেষে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে যে দোলাচলের সৃষ্টি হয়েছিল, তার অবসান হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর বোধোদয় ঘটেছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের শেষ বৈঠকে এটি অর্জিত হয়েছে।

সংবিধান সম্পর্কিত অনেকগুলো প্রস্তাবনা সম্পর্কে জাতীয় ঐক্য অর্জিত হলেও এখন বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গোল বেধেছে। এতে করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের যে অর্জন, তা ভেস্তে যেতে বসেছে।

ডাকসু-জাকসু নির্বাচন অবশেষে জাতীয় নির্বাচন কতটা প্রভাবিত করবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই মুহূর্তে নিঃসন্দেহে এটি জামায়াত তথা ইসলামি রাজনীতির উৎসাহ-উদ্দীপনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা ঐক্যবদ্ধ হলে মাঠে-ময়দানে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অর্জন করতে পারে।

একসময় রাজার রাজত্ব ছিল। প্রজাসাধারণের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না। গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্বের ধারণা থেকে নির্বাচন ব্যবস্থা উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে। প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি কীভাবে আরো উত্তম হতে পারে, সেটি নিয়ে ভেবেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশের মানুষ প্রায় শতভাগ বাংলায় কথা বলে। একই রূপ ভাষার ঐক্যে বাংলাদেশ সমৃদ্ধ। ধর্মের দিক থেকে প্রায় একই বিশ্বাস ও জীবনবোধ ধারণ করে বাংলাদেশ। দেশটি নৃতাত্ত্বিকভাবে প্রায় একই ধরনের। বলা যায় মিশ্র জনগোষ্ঠী। একই সমতল ভূমিতে এদের বসবাস। ভূগোল, ইতিহাস ও অভিন্ন সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ তারা।

রাজনীতিতে মতদ্বৈধতা, বিরোধ ও বিতর্ক একটি সহজাত বিষয়। সবাই যদি সব বিষয়ে একমত হয়, তাহলে রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান ও মতপার্থক্য অসার হয়ে যায়। স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন, ‘যত মত তত পথ’।

ছাত্ররাজনীতি নিয়ে বিভেদ-বিরোধ আছে। কিন্তু ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোনো বিরোধ নেই, কোনো বিতর্ক নেই। সচেতন নাগরিক সাধারণ সবাই একমত যে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে তোলার জন্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই। আগেকার প্রবাদটি ছিল এ রকম ‘ছাত্রানাং অধ্যয়নং তপঃ’। ছাত্রদের একমাত্র তপস্যা

ফ্যাসিবাদ এবং নাজিবাদ শব্দ-যুগল আমাদের দেশে একই অর্থে, একইভাবে ব্যবহৃত হয়। আসলে বিষয়টি দুটো ভিন্ন ভিন্ন দেশের রাজনৈতিক আদর্শ সম্পর্কিত বিষয়। একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার কারণ এই যে দুটো আদর্শ বা তত্ত্বই একই উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যে পরিচালিত। গুরুত্ব ও ব্যাপকতার দিক দিয়ে ফ্যাসিবাদের চেয়ে নাজিবাদ বা নাৎসিবাদই

বাংলাদেশ তথা সমসাময়িক পৃথিবীতে জুলাই বিপ্লবটি ছিল অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। ব্যাকরণে যেমন নিপাতনে সিদ্ধ প্রত্যয় আছে, তেমনি এ বিপ্লবেরও ভিন্নতা ও স্বাতন্ত্র্য আছে। আমাদের এই মাতৃভূমিতে আন্দোলন, সংগ্রাম, অভ্যুত্থান ও গণঅভ্যুত্থানের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস। তা সত্ত্বেও এই গণঅভ্যুত্থানের গতি-প্রকৃতিতে

বাংলাদেশের নেতিবাচক জনমনস্তত্ত্বের সঙ্গে আওয়ামী লীগের একটি সংযোগ আছে। এই দল সম্পর্কে সব অভিযোগ ছাপিয়ে একটি বৈশিষ্ট্য এই যে, এরা আচার-আচরণ, কথাবার্তা ও চালচলনে একটু উগ্র। ফ্যাসিবাদ, নাজিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের যে অভিযোগটি হরহামেশাই এদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়, আসলে এটা তাদের মজ্জাগত।

বাংলাদেশের রাষ্ট্র এবং জনমনস্তত্ত্বের একটি অনিবার্য বিষয় ‘ভাবাদর্শের সংঘাত’ (Conflict of values)। বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে দেখা হয় দ্বিজাতিতত্ত্বের অবসান হিসেবে। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের মূল প্রতিপাদ্য ছিল হিন্দু-মুসলমান।

যেকোনো নির্বাচন ব্যবস্থার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হচ্ছে সত্যিকার অর্থে জনমতের প্রতিফলনের মাধ্যমে প্রতিনিধিত্বের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

সবমিলিয়ে National Reconciliation-এর কথাও বলা হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে জাতীয় নিরাপত্তার পরিপূরক মনে করেন।

তরাং সংবিধানের মূলনীতি-বিষয়ক বিতর্কের অবসান হতে পারে পঞ্চম সংশোধনীতে ফিরে গেলে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জনগণের আকাঙ্ক্ষায় ও অনুমোদনে যে বিষয়টি স্থির করে গেছেন

প্রেসিডেন্ট পদটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতা, মর্যাদা, সম্মান ও সার্বভৌমত্বের নির্দেশক। পৃথিবীর রাষ্ট্রব্যবস্থায় এটি তিন ধরনের। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি আলংকারিক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ক্ষমতার প্রতিনিধি এবং কতিপয় ক্ষেত্রে মিশ্র ধরনের।

আওয়ামী স্বেচ্ছাচার বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ওবায়দুল কাদের, যিনি কাউয়া কাদের নামে সমধিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি অতি সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। তার বেশি কথা বলার বদনাম ছিল।

প্রথমদিকে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের উচ্চারিত ও অনুচ্চারিত কথায় বোঝা যাচ্ছিল মেয়াদটি দীর্ঘ হওয়া উচিত। এর মানে এই নয় যে, তিনি ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতে চাচ্ছেন

বাংলাদেশের এক বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী প্রয়াত জিল্লুর আর খানের একটি গ্রন্থের উপশিরোনাম ‘ক্রাইসিস টু ক্রাইসিস’।

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছিলেন, ‘পরসি পেহলে লেকেন বাংলাদেশ সাবচে পেহলে।’ ভারত যে প্রতিবেশী দেশগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়, তিনি তা বোঝাতে চেয়েছেন। আবার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে সবচেয়ে নিকটবর্তী মনে করেন এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে চান, তা বোঝাতে চেয়েছেন।

রাজনৈতিক দল সম্পর্কে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে যেসব কথাবার্তা বলা হয়, তার সারাংশ হচ্ছে প্রতিটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতা অভিলাসী। একেকটি রাজনৈতিক দল দেশ-জাতি-রাষ্ট্রের একেক অবস্থায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

‘পুলিশ’ শব্দটি উচ্চারিত হলে আমাদের সুখকর অনুভূতি হয় না। সেই পুরোনো আমল থেকে পুলিশ মানুষের বন্ধু না হয়ে ভীতির কারণ হয়েছে।

২০২৪ সালের ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের একটি অনিবার্য উদ্যোগ সর্বত্র পরিলক্ষিত হয়।

সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড পামার স্টোন (Lord Palmer Stone, 1784-1865 পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রী) বলেছিলেন, ‘Great Britain doesn’t have permanent friend or foe, but has got permanent interest.’ পররাষ্ট্রনীতি-বিশারদরা এ উক্তিকে রাষ্ট্রগুলোর সম্পর্ক বিন্যাসের নিয়ামক মনে করেন।

ওয়াক্ফ হলো মুসলিম আইনে স্বীকৃত একটি স্থায়ী ভূমি ব্যবস্থাপনা। এভাবে অস্থাবর বা স্থাবর সম্পত্তি ধর্মীয় উদ্দেশ্যে দান করা হয়। এই অনুদানকে ‘মুশরুত-উল-খিদমত’ বলা হয়। যিনি এই দান করেন, তাকে ‘ওয়াকিফ’ বলা হয়।

ঝগড়া-ফ্যাসাদ যে শুধু গ্রামেই হয় তা নয়। তবু গ্রামীণ ঝগড়া-বিবাদের একটা ভিন্ন রকম বিষয়-বৈশিষ্ট্য আছে। ‘Village Politics’ শব্দটি রাজনীতি-বিষয়ক নয়, বরং গ্রামীণ জীবনের জটিলতা, কুটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা নিদের্শক। অথচ একসময় গ্রামীণ জীবনের সরলতার সুনাম ছিল।

‘আত্মহনন’ শব্দটি দুটি অংশে বিভক্ত– ‘আত্ম’ নিজ এবং ‘হনন’ বিনাশ, হত্যা। আত্মহনন শব্দের অর্থ নিজেকে হত্যা করা বা আত্মহত্যা করা। এটি এক ধরনের চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত, যেখানে কোনো ব্যক্তি নিজের জীবন নিজেই বিনাশ করেন।

মৃত্যু একটি স্বাভাবিক সত্য। কোরআন বলে ‘কুল্লু নাফসিন জাইকাতুল মাউত’। প্রতিটি জীবের জন্য মৃত্যু অবধারিত। ‘জন্মিলে মরিতে হবে, অমর কে কোথা কবে’। যেকোনো মৃত্যু শোকের ছায়া ফেলে। অস্বাভাবিক মৃত্যু অস্বাভাবিকভাবেই আমাদের হৃদয় ও মনকে ব্যথিত করে। কোনো কোনো মৃত্যু কোনো কোনো সময় হিমালয়ের চেয়ে ভারী মনে হয়।

মানুষ সামাজিক জীব। একে অন্যের সহযোগিতা ও সহমর্মিতায় জীবন হয়ে ওঠে মধুময়। আবার এ জীবনই অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে, যদি ঘটে সামাজিক অনাচার। আবার সামাজিক অনাচার তখনই ঘটে, যখন মূল্যবোধের অবক্ষয় লক্ষ করা যায়।

ব্যক্তি, পরিবার এমনকি রাষ্ট্রব্যবস্থায় এমন কিছু সংবেদনশীল বিষয়-আশয় থাকে, যা সবাই এড়িয়ে যেতে চায়। পারিবারিক পর্যায়ে এমন সব ঘটনা ঘটে, যা বললেও বিপদ না বললেও বিপদ। রাজনীতি এমনিতেই একটি জটিল ও কুটিল বিষয়, যদিও রাষ্ট্রচিন্তকরা একে ‘Art of Compromise’ বলে থাকেন।

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯। বাংলাদেশ জাতি রাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি মর্মান্তিক দিন। একটি রক্তাক্ত অধ্যায় রচিত হয়েছিল এই দিনে। শুধু রক্ত ও অশ্রুর মাঝে সীমিত ছিল না এই দুর্ভাগ্যের সময়টি। সময়ের প্রবাহে ধীরে ধীরে মিথ্যা অপসৃত হয়েছে আর সত্য হয়েছে উদ্ভাসিত।

বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের জন্য অবশেষে যথার্থ অর্থেই একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ যাত্রা শুরু করেছে। জুলাই বিপ্লবের ফলে যে সামগ্রিক রাষ্ট্র সংস্কারের জন-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়, তারই প্রথম ধাপ হিসেবে এটি চিহ্নিত হয়েছে।

‘অন্তর্বর্তী’ শব্দটিই প্রমাণ করে যে এ সরকার কোনো বিধিবদ্ধ সরকার নয়। কোনো দেশ বা রাষ্ট্রে যখনই কোনো রাজনৈতিক বা সাংবিধানিক সংকট আসে, তখন এ ধরনের সরকার দিয়ে সংকটের সময় অতিক্রান্ত করেন সে দেশের শীর্ষজনরা।

আমাদের নাগরিক সাধারণের যাতে এভাবে বাহিনীর হাতে এবং রাজনৈতিক নেতাদের হাতে জীবন দিতে না হয়, সেজন্য কী করা প্রয়োজন? বাংলাদেশ শাসনের জন্য তো আকাশ থেকে নেতা আমদানি করা যাবে না, কবর খুঁড়ে ভালো মানুষদের ফিরিয়ে আনা যাবে না। তাই আমাদের সমাধান আমাদেরই করতে হবে।

রাজনীতিতে বিরোধ বা বিতর্ক অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অস্বাভাবিক তা, যা দেশ-জাতি-রাষ্ট্রকে আহত করে। দর্শনগতভাবে বলা হয় ‘যত মত তত পথ’ আর ‘শত ফুল ফুটতে দাও’। এও রাজনীতির আহ্বান।

প্রতিটি রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রশাসনের নানারকম বিভক্তি ও বিকেন্দ্রীকরণ থাকে। ছোট ছোট রাষ্ট্রগুলো সাধারণত ‘এককেন্দ্রিক ব্যবস্থা’ বা কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা শাসিত হয়। আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মতো বিশাল দেশ শাসনে অনিবার্যভাবেই ভৌগোলিক বিভক্তি ঘটে।

যারা আদর্শিক রাজনীতি করেন, সমাজ পরিবর্তনের আহ্বান জানান এবং ন্যায়ের সংগ্রামে অংশীদার হতে চান, তারা বলেন, ছাত্রদের অবশ্যই এসব বিষয়ে নিরন্তর সংগ্রামশীল হতে হবে। তারা স্লোগান দেন, ‘এ সমাজ ভাঙতে হবে নতুন সমাজ গড়তে হবে।


তিনি বলেছিলেন, ‘শেখ হাসিনা পালায় না’, অবশেষে তিনি পলায়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতা-পাতি নেতারা এটা বারবার বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।’ আসলে ষড়যন্ত্র এবং ষড়যন্ত্রই আওয়ামী ক্ষমতার নিয়ামক।