আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

মিলন-বিরহ সংকটে রাজনীতি

আবদুল লতিফ মাসুম

মিলন-বিরহ সংকটে রাজনীতি

রাজনীতি একটি জটিল বিষয়। এটি সহজ-সরল রেখার মতো নয়। রাজনীতিতে ন্যায়-নীতি যেমন আছে, তেমন আছে অন্যায়-অনিয়ম প্রভৃতি। রাজনীতিতে চিরশত্রু, চিরমিত্র বলেও কোনো স্থিরতা নেই। অবস্থা অনুযায়ী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ব্যবস্থা নেয়। স্থান, কাল ও পাত্র অনুযায়ী তাদের আচরণ নির্ধারিত হয়। সবাই স্বীকার করেন, রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। Charles de Gaulle বলেন, ‘Politics is too serious a matter to be left to the politicians.’ ‘দ্য গল’ অবশ্য জাতীয় তথা রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে রাজনীতিকে দেখেছেন। তার কথা—শুধু রাজনীতিবিদদের ওপর নির্ভর করে একটি জাতি নির্বিঘ্ন থাকতে পারে না। নাগরিকদের বিভিন্ন দায়িত্বশীল অংশেরও রাজনীতির দায় ও দায়িত্ব বর্তায়। রাজনীতিবিদদের সম্পর্কে আরো খারাপ কথা আছে। স্যামুয়েল জনসনের কথাটিকে একটু বাঁকা করে বলা হয়—‘Politics is the last refuge of the scoundrel.’ জনসন সেসব রাজনীতিবিদকে সমালোচনা করছিলেন, যারা তাদের অন্যায় অপকর্মকে রাজনীতি অথবা দেশপ্রেমের ভান করে বৈধ করতে চান। সত্যিকার দেশাত্মবোধকে তিনি অপবাদ দেননি। শুধু অসৎ লোকেরা নিজেদের স্বার্থ সুবিধার জন্য রাজনীতির নানা ধরনের ব্যাখ্যা দেয়। রাজনীতির এতসব ইতিবাচক এবং নেতিবাচক তত্ত্ব মনে রেখে আমরা বাংলাদেশের এই সময়ের রাজনীতি ব্যাখ্যা করতে চাই।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের সর্বশেষ গন্তব্য ছিল একটি জাতীয় নির্বাচন। বিপ্লবের আরো দুটি অনুষঙ্গ ছিল বিচার ও সংস্কার। রাজনীতিবিদরা যতটা না বিচার ও সংস্কার নিয়ে আগ্রহী ছিলেন, তার চেয়ে বেশি আগ্রহী ছিলেন তাদের নির্বাচন নিয়ে—এটাই স্বাভাবিক। ক্ষমতার জন্যই রাজনীতিবিদরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাজনৈতিক দলগুলোকে এভাবে ভাগ করে: ১. আদর্শভিত্তিক—এটি আবার তিন ধরনের, যথা ডানপন্থি, বামপন্থি ও মধ্যপন্থি; ২. সংগঠনভিত্তিক—ক্যাডারভিত্তিক দল, গণভিত্তিক দল; ৩. ক্ষমতার অবস্থান অনুযায়ী—শাসক দল, বিরোধী দল; ৪. লক্ষ্যভিত্তিক—বিপ্লবী দল ও সংস্কারবাদী দল; ৫. ব্যবস্থাভিত্তিক—একদলীয় ব্যবস্থা, দ্বিদলীয় ব্যবস্থা ও বহুদলীয় ব্যবস্থা। এভাবেই বিভিন্ন মানদণ্ডে রাজনৈতিক দলকে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে যদি মোটা দাগে বিভাজন করা যায়, তাহলে ক্ষমতাশ্রয়ী ও আদর্শভিত্তিক বিভাজন বাস্তবানুগ মনে হয়। উভয় ধরনের রাজনৈতিক গোষ্ঠী থেকে জুলাই বিপ্লবের পর নির্বাচনের তাগিদ ছিল লক্ষ্য করার মতো। অন্তর্বর্তী সরকার অবশেষে একটি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে বিদায় নিয়েছে। বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্র ব্যবস্থায় প্রতিনিধিত্বশীল সরকার কায়েম হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কমবেশি বিতর্ক থাকলেও বড় কোনো ঝড় আসেনি।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। মাত্র কয়েক দিন আগে যে সরকারটি প্রতিষ্ঠিত হলো, তার ভালোমন্দ যাচাইয়ের সময় হয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় জিয়াউর রহমানের ছায়া পরিলক্ষিত হয়। সহজ সরলতা, মানবিকতা ও সৌজন্য প্রভৃতির মাধ্যমে তিনি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছেন। সর্বশেষ যে ঘটনাটি সবাইকে আশ্বস্ত করেছে, আনন্দ দিয়েছে এবং বিশ্বস্ত করেছে—তা হলো বিরোধীদলীয় নেতার আহ্বানে তাদের ইফতার মাহফিলে যোগদান। এর আগের ঘটনাবলি যখন প্রধান দুটো রাজনৈতিক দলের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিদ্বেষ এমনকি কোথাও কোথাও হানাহানির ঘটনা ঘটিয়েছে, তখন ইফতার মাহফিলে দু-নেতার পাশাপাশি অবস্থান সৌজন্য ও সৌহার্দ্যের সৌরভ ছড়িয়ে দেয়। দেশের মানুষ অনেক প্রত্যাশা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে—এরকম মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি, আমাদের আগামী দিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করা। আসুন আমরা আল্লাহর দরবারে সেই রহমত চাই, যার মাধ্যমে আল্লাহ আমাদের এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। আজকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সবাই একত্রিত হয়েছি। এটি দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। কিছুদিন আগে দেশে একটি নির্বাচন হয়েছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশের মানুষের জন্য প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে সমাজের মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছে। বিভিন্ন অত্যাচার, নির্যাতন ও গুম-খুনের শিকার হয়েছে। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আমরা গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করতে পেরেছি। নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সেই সুযোগ পেয়েছি। একইভাবে আমরা বাক-ব্যক্তিস্বাধীনতা পেয়েছি। অধিকার চর্চার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আসুন সবাই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করি। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, মানুষ আজকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে আছে; বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। আজকের ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি—আমাদের আগামী দিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য; দেশকে পরিবর্তন করার কাজ করার তৌফিক যেন তিনি আমাদের দান করেন। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি জামায়াতে ইসলামীকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে, আমার সঙ্গের নেতৃবৃন্দ এবং সব সফরসঙ্গীকে ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়ার জন্য। এখানে অন্যান্য দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আছেন; আছেন অন্যান্য শ্রেণি-পেশার সম্মানিত ব্যক্তিরা।’ পরিশেষে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

জামায়াতে ইসলামীর প্রধান ডা. শফিকুর রহমান মাহফিলে সভাপতির বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুরেই কথা বলেন। তিনি বলেন, সরকার এবং সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা। সে হিসেবে আজকের দিনটি ভিন্ন বার্তা দেয়। ডা. শফিকুর রহমান ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারিকে জাতির জন্য একটি কালো দিন হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ‘আজকের এই দিনে বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কোরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে একটি সাজানো রায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছিল। এর প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাজপথে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। সরকার অস্ত্রের ভাষা বেছে নিয়েছিল। তৎকালীন সরকার নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এক দিনে ৭০ জন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ১৬৪ জনকে হত্যা করেছিল। এই ক্ষত আমাদের মন থেকে কোনোদিন মুছবে না।’ জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম, মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি তাদের মাগফিরাত কামনা করেন। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সম্পর্কে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘চব্বিশের ফ্যাসিবাদ যে এভাবে বিদায় নেবে, তা আমরা কল্পনাও করিনি। আমাদের সিংহশাবক ছাত্ররা এবং জুলাইযোদ্ধারা এ অসাধ্য সাধন করেছে। যারা শহীদ হয়েছেন, আল্লাহ তাদের কবুল করুন এবং যারা আহত ও পঙ্গু অবস্থায় আছেন, জাতি তাদের চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’

ডা. শফিকুর রহমান জোর দিয়ে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব কালো আইন রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। বর্তমান সরকার ও সংসদের কাছে জনগণের বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে বলে উল্লেখ করে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘আমরা গতানুগতিক কোনো বিরোধী দল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখতে চাই না। আমরা চাই এ সংসদ হোক অর্থবহ এবং জনগণের সব চাওয়া-পাওয়ার কেন্দ্রবিন্দু।’ তিনি আরো বলেন, ‘সংসদ কখনো এক চাকায় চলে না। এটি সচল রাখতে সরকারি ও বিরোধী দল উভয় চাকারই প্রয়োজন। সরকারি দল সামনের চাকা হলে বিরোধী দল হবে পেছনের চাকা। আমরা অতীতের মতো ডামি বিরোধী দল হতে চাই না। সরকারের সঠিক পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন থাকবে, তবে কোনো অসংগত সিদ্ধান্ত নিলে আমরা গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ দেব।’ অতীত সংসদের সমালোচনা করে আমিরে জামায়াত বলেন, ‘আমরা চাই না সংসদের একটি সেকেন্ডও কারো চরিত্রহননের পেছনে নষ্ট হোক। বরং এটি হওয়া উচিত জাতীয় সমস্যা সমাধানের চাবিকাঠি। সংবিধানে যেসব কালো আইন রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করে একটি মর্যাদাবান জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে দাঁড়ানোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।’ বক্তব্যে জামায়াত আমির সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘২০১৩ সালের সেই হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি সিঙ্গাপুরে ছিলেন। ফিরে এসে তিনি এটিকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে হরতাল ঘোষণা করেছিলেন। জেলে থেকে আমরা তার সেই সাহসী ভূমিকা দেখেছি। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন।’

দেশের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর তরফ থেকে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সরকারপ্রধানকে এভাবে দাওয়াত দেওয়া ছিল একটি বিরাট সৌজন্য। নির্বাচন থেকে উদ্ভূত বিরোধ ও বিপত্তি বিবেচনা করে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হয়তো প্রধানমন্ত্রী আসবেন না। কিন্তু তিনি এলেন, দেখলেন এবং সবার মন জয় করলেন। তাকে স্বাগত জানাতে জামায়াত আমির এবং অন্যান্য নেতা যখন গেটে যান, তখন এক অপূর্ব আবেগঘন আনন্দময় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই কদিন আগে পরস্পর প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীরা যখন এক কাতারে শামিল হন, তখন অতীতকে ভুলে গিয়ে সবাই বাস্তবতাকে আলিঙ্গন করেন। এখন সমাগত সংসদ অধিবেশন এমনই আনন্দ ও সৌজন্যে পরিপূর্ণ হলে নাগরিক সাধারণের আশা-আকাঙ্ক্ষার পরিপূরণ ঘটবে। এই সৌজন্যের আবহাওয়া কত দিন বজায় থাকবে, তা নিয়ে চিন্তিত রাজনৈতিক মহল। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়েছে। এই অধিবেশনে প্রথাগত আনুষ্ঠানিকতার পর জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্কটি আবার রাজনীতিকে উত্তপ্ত করবে কি না, তা বিবেচ্য বিষয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার সংবিধান সংস্কার কমিশন ও পরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ প্রণয়ন ও গণভোটে অনুমোদনের পর তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্যদের অতিরিক্ত শপথ গ্রহণের প্রশ্নে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিএনপি শপথ না নিয়ে যুক্তি দেয়, সংবিধানে এমন পরিষদের বিধান নেই, তাই এ শপথ সাংবিধানিক নয়। অন্যদিকে সংস্কারপন্থি আইনজীবীরা বলেন, গণভোটে জনগণের অনুমোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ভিত্তিতে এই শপথ বাধ্যতামূলক এবং তা উপেক্ষা করা জুলাই সনদের লঙ্ঘন।

আইন বিশ্লেষকদের মতপার্থক্য মূলত দুই তাত্ত্বিক অবস্থানের প্রতিফলন। প্রথমটি আইনি-পজিটিভবাদী (legal positivist) দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে সংবিধানই সর্বোচ্চ আইন; এর বাইরে কোনো প্রক্রিয়া বৈধ নয়। দ্বিতীয়টি জনসার্বভৌমত্ব-ভিত্তিক (popular sovereignty) দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে জনগণের প্রত্যক্ষ রায় (গণভোট) সাংবিধানিক কাঠামোর ঊর্ধ্বে রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি করতে পারে।

এ বিতর্ক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীয়ভাবে ‘বিপ্লব-পরবর্তী সাংবিধানিক রূপান্তর’ (post-revolutionary constitutional transition) প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত। সংসদীয় সার্বভৌমত্ব বনাম গণভোটনির্ভর বৈধতা—এই দ্বৈততার সমন্বয় না হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। তবে অধিকাংশ বিশ্লেষক মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা কাঠামো গড়ে তোলাই হবে টেকসই সমাধান।

লেখক: রাজনীতি বিশ্লেষক, সাবেক অধ্যাপক, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন