গাজীউল হাসান খান

নিঃসন্দেহ বলা যায়, ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও বিজ্ঞানভিত্তিক একুশ শতকের এ পর্যায়ে এসে ইহলোকিক এবং পারলৌকিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় রাজনীতিতে জনসমক্ষে এনে হাজির করা কিংবা তাকে আম-জনতার কাছে সর্বতোভাবে গ্রহণযোগ্য করানোর কাজটি মোটেও সহজসাধ্য নয়। তার জন্য ব্যাপক

আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ, তৎকালীন পাকিস্তান কিংবা এই উপমহাদেশের সামগ্রিক রাজনীতি ও আন্দোলন-সংগ্রামের এক অবিসংবাদিত অগ্নিপুরুষ ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তার জীবনটাই ছিল একটা সামগ্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা।

বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর অভ্যুত্থান থেকে উৎসারিত একটি বৈপ্লবিক শক্তিই তাদের অধিকার দিয়েছে পুরোনো-অকেজো কিংবা বিতর্কিত, মনগড়া সংবিধানসহ সবকিছু ছুড়ে ফেলে দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার কাজে দৃপ্ত পদভারে এগিয়ে যেতে। সে কারণে দেশ ও জাতির চাহিদা অনুযায়ী অতি আবশ্যকীয় কিছু মৌলিক সংস্কার-সংবলিত ‘জুলাই ঘোষণা’ কিংবা

এ কথা ঠিক যে, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজাসহ সমগ্র বিশ্ববাসী গাজায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় আপাতত খুশি এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। কারণ ফিলিস্তিন ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ভঙ্গ করে ১৯৪৮ সালে এখানে বলপূর্বক একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ অঞ্চলের শান্তি-স্বস্তি প্রায় উধাও হয়ে গিয়েছিল।

জাতিসংঘের ইতিহাসে এবারের ৮০তম অধিবেশন শুধুই ফিলিস্তিন ইস্যুর জন্য খ্যাত হয়ে থাকবে বলে তথ্যাভিজ্ঞরা মনে করেন। ইহুদি দখলদার রাষ্ট্র ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চলমান বিগত ৭৭ বছরের দ্বন্দ্ব ও সংঘাত কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অতীতে কখনো ফলপ্রসূ হয়নি।

এখন সর্বত্র একটি পরিবর্তনের ধারা লক্ষ করা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ বিবেকবান মানুষের মধ্যে। তারা কট্টর ইহুদিবাদী ধ্যান-ধারণার বশবর্তী নয়। সেসব ধ্যান-ধারণা অনেকেই এখন লালন-পোষণ করে না।

পঞ্চাশ দশকের শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিকতা, পশ্চিমা কর্তৃত্ববাদ এবং একটি এককেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিয়ে তার পরিবর্তে একটি বহুকেন্দ্রিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র, নতুন নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ার উদ্দেশ্যেই চীনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাংহাই কোঅপারেশন অরগানাইজেশন (এসস

যেখানে ৫ আগস্টের আগে দেশের তুলনামূলকভাবে বড় দল বিএনপি ও জামায়াত এবং অন্যদের সম্মিলিত দাবি ছিল মৌলিক সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন ঘোষণা করা, সেখানে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

কলকাতাসহ ভারতের বেশ কিছু সামাজিক ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক গণমাধ্যম বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দেশটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত উঠেপড়ে লেগেছে বলে মনে হচ্ছে।